লকআপে বাবা ও ছেলেকে পিটিয়ে খুন তামিলনাড়ুতে, ৯ পুলিশকর্মীর ফাঁসির ঐতিহাসিক রায়

তামিলনাড়ুর মাদুরাই আদালত পুলিশি হেফাজতে বাবা ও ছেলেকে পিটিয়ে খুনের ঘটনায় এক নজিরবিহীন রায় ঘোষণা করেছে। ২০২০ সালের জুন মাসে সাতানকুলম থানায় পুলিশি অত্যাচারে ব্যবসায়ী পি জয়রাজ (৫৯) এবং তাঁর ছেলে জে বেন্নিক্স (৩১)-এর মৃত্যুর মামলায় ৯ জন পুলিশকর্মীকে ফাঁসির সাজা দেওয়া হয়েছে। সাজাপ্রাপ্তদের তালিকায় রয়েছেন একজন ইনস্পেক্টর, দুজন সাব-ইনস্পেক্টর এবং কনস্টেবল পদমর্যাদার আধিকারিকরা। ভারতের বিচারিক ইতিহাসে একসঙ্গে এতজন পুলিশকর্মীর মৃত্যুদণ্ড অত্যন্ত বিরল ও তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
মামলার বিবরণে জানা যায়, কোভিডবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে জয়রাজ ও তাঁর ছেলেকে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। বিচারক জি মুধুকুমারন এই ঘটনাকে ‘অত্যন্ত বিরল অপরাধ’ এবং ‘ক্ষমতার চরম অপব্যবহার’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই আদালতে প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে যে, রাতভর পরিকল্পিতভাবে ওই দুজনের ওপর নৃশংস নির্যাতন চালানো হয়েছিল। এই মামলার দশম অভিযুক্ত বিশেষ সাব-ইনস্পেক্টর পলদুরাই বিচার চলাকালীন কোভিডে আক্রান্ত হয়ে মারা যান।
আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, পুলিশি হেফাজতে এই ধরনের নির্মমতা ক্ষমার অযোগ্য। দীর্ঘ ছয় বছরের শুনানির পর আদালত সিবিআই-এর যুক্তিতে সায় দিয়ে অপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তির নির্দেশ দেয়। এর আগে ১৯৯৯ সালে তামিলনাড়ুতেই একই ধরনের ঘটনায় ৯ জন পুলিশকর্মীর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়েছিল, তবে এবারের রায় পূর্বের সমস্ত নজিরকে ছাপিয়ে গেছে। এই রায় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের ক্ষমতার অপব্যবহার রোধে একটি কঠোর বার্তা দেবে বলে মনে করা হচ্ছে।