মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্যে উস্কানি দেখছে কমিশন, পরিস্থিতি বিগড়োলে কড়া ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি সুপ্রিম কোর্টের
পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে সুপ্রিম কোর্টে চলমান শুনানিতে নতুন করে রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়িয়েছে। সোমবার শুনানির সময় ভারতের নির্বাচন কমিশন অভিযোগ তোলে যে, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাম্প্রতিক কিছু মন্তব্য রাজ্যের গণতান্ত্রিক পরিবেশকে উত্তেজিত করছে। এই প্রেক্ষিতে শীর্ষ আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, যদি রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রশাসন ব্যর্থ হয়, তবে আদালত সরাসরি হস্তক্ষেপে বাধ্য হবে।
কমিশনের পক্ষ থেকে আদালতে মালদহের কালিয়াচকের সাম্প্রতিক উত্তপ্ত পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করা হয়। অভিযোগ করা হয়েছে, একটি জনসভায় কেন্দ্রীয় বাহিনী (CRPF) সম্পর্কে মুখ্যমন্ত্রী এমন মন্তব্য করেছেন যা সাধারণ মানুষের মধ্যে অহেতুক আতঙ্ক সৃষ্টি করতে পারে। বিশেষ করে উত্তরপ্রদেশ থেকে আসা জওয়ানদের নিয়ে করা মন্তব্যে ভোটের আবহে উত্তেজনা ছড়ানোর আশঙ্কা প্রকাশ করেছে কমিশন। সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা শুনানিতে একটি ভিডিওর প্রসঙ্গ আনেন, যেখানে একজন বিচারিক আধিকারিককে অত্যন্ত ভীত ও আবেগপ্রবণ অবস্থায় নিজের পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করতে দেখা গেছে।
পরিস্থিতির গুরুত্ব বিচার করে প্রধান বিচারপতি পর্যবেক্ষণ করেন যে, রাজ্যের বিচারিক আধিকারিক ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা প্রশাসনের প্রাথমিক দায়িত্ব। মালদহে সাতজন জুডিশিয়াল অফিসারকে দীর্ঘক্ষণ ঘেরাও করে রাখার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আদালত। এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে রাজ্য পুলিশ ইতিমধ্যে ২৪ জনকে গ্রেফতার করলেও সুপ্রিম কোর্ট এদিন স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছে যে, ধৃতদের এবং ঘটনার সমস্ত নথি অবিলম্বে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা বা এনআইএ-র হাতে তুলে দিতে হবে।
মূল অভিযুক্ত হিসেবে মোফাক্কেরুল ইসলাম ও শাহজাহান আলিকে চিহ্নিত করা হয়েছে। শীর্ষ আদালত জানিয়েছে, পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনে পরবর্তী কঠোর পদক্ষেপ বিবেচনা করা হবে। রাজনৈতিক মহলের মতে, ভোটার তালিকা সংশোধনকে কেন্দ্র করে কমিশন ও রাজ্য প্রশাসনের এই সংঘাত আইনি লড়াইয়ের পাশাপাশি নতুন এক প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি করল।