১৪ বছরে বিপুল বিস্তার বাংলায় নিঃশব্দে শক্তি বাড়িয়ে জাল ছড়াচ্ছে আরএসএস

পশ্চিমবঙ্গের মাটিতে বিগত দেড় দশকে উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) সাংগঠনিক উপস্থিতি। মূলস্রোতের রাজনীতির আড়ালে থেকে গ্রাম ও শহরতলি মিলিয়ে বাংলায় হিন্দুত্ববাদী এই সংগঠনের বিস্তার এখন চোখে পড়ার মতো। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ১৪ বছরে রাজ্যে আরএসএস-এর শাখার সংখ্যা ৫৩০ থেকে বেড়ে বর্তমানে ২,৫০০ ছাড়িয়ে গিয়েছে। ২০১১ সালে যেখানে সমগ্র রাজ্যে এই সংগঠনের ইউনিটের সংখ্যা ছিল মাত্র ৮৩০-এর কাছাকাছি, ২০২৫ সালে তা ৪,৫৪০-এ পৌঁছেছে।
বিশেষ করে ২০২৩ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে মধ্যবঙ্গ প্রান্তেই ৫০০-র বেশি নতুন শাখা যুক্ত হয়েছে। উত্তরবঙ্গ ও দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলোতেও শাখা, মিলন ও মণ্ডলীর সংখ্যা পাল্লা দিয়ে বেড়েছে। গ্রামীণ ও শহুরে এলাকায় সাধারণ হিন্দু পরিবারের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন এবং পাড়ায় পাড়ায় নিয়মিত শারীরিক অনুশীলন ও সাংস্কৃতিক আলোচনার মাধ্যমেই এই প্রসার সম্ভব হয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। সংঘের পক্ষ থেকে চরিত্র গঠন ও সমাজসেবাকে মূল লক্ষ্য বলা হলেও, রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই মজবুত সাংগঠনিক ভিত্তি আগামী নির্বাচনে বিশেষ প্রভাব ফেলতে পারে।
আরএসএস নেতারা প্রতিটি গ্রাম পঞ্চায়েতে ইউনিট গড়ে তোলার লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছেন। ২০২৬ সালের নির্বাচনের আগেই রাজ্যে ৮,০০০ ইউনিট তৈরির টার্গেট নিয়ে কাজ চলছে। সংগঠনের এই গ্রাসরুট আউটরিচ বা প্রান্তিক স্তরে জনসংযোগ বিজেপির জন্য একটি শক্তিশালী ক্ষেত্র তৈরি করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। ২০১৯-এর লোকসভা নির্বাচনে বিজেপির আশাতীত সাফল্যের নেপথ্যে সংঘের এই বুথ স্তরের সক্রিয়তা বড় ভূমিকা পালন করেছিল।
বর্তমানে গ্রামের সাধারণ মানুষের কাছে আরএসএস একটি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পরিবর্তনের মাধ্যম হিসেবে পরিচিতি পাচ্ছে। রামনবমী বা দুর্গাপূজার মতো উৎসবে সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং স্থানীয় সমস্যা নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে জনমানসে প্রভাব বাড়াচ্ছে তারা। নির্বাচনের দিনক্ষণ যত এগিয়ে আসছে, বাংলার রাজনীতিতে আরএসএস-এর এই ক্রমবর্ধমান সাংগঠনিক শক্তি এবং হিন্দু ভোটব্যাঙ্কের মেরুকরণ ঠিক কতটা নির্ধারক ভূমিকা নেবে, তা নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।