মনোনয়ন জমা দিতে পুলিশের গাড়ি ব্যবহার তৃণমূল নেতার! নৈহাটিতে নির্বাচনী বিধিভঙ্গের অভিযোগে শোরগোল

মনোনয়ন জমা দিতে পুলিশের গাড়ি ব্যবহার তৃণমূল নেতার! নৈহাটিতে নির্বাচনী বিধিভঙ্গের অভিযোগে শোরগোল

রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনের মনোনয়ন পর্বকে কেন্দ্র করে সরগরম ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চল। সোমবার নৈহাটি পৌরসভার চেয়ারম্যান তথা তৃণমূল কংগ্রেসের প্রভাবশালী নেতা অশোক চট্টোপাধ্যায়কে পুলিশের সরকারি গাড়ি ব্যবহার করে মনোনয়ন জমা দিতে যাওয়ার ঘটনায় তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, তিনি নৈহাটি থানার একটি অফিশিয়াল গাড়িতে চড়ে ব্যারাকপুর এসডিও অফিসে পৌঁছান। নির্বাচনী আচরণবিধি বলবৎ থাকাকালীন একজন দলীয় নেতা কীভাবে পুলিশের গাড়ি ব্যবহার করলেন, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

বিজেপির পক্ষ থেকে এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। নোয়াপাড়ার বিজেপি প্রার্থী অর্জুন সিং নিজের এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেলে এই ঘটনার ছবি ও ভিডিও পোস্ট করে তৃণমূল কংগ্রেসকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন। তাঁর দাবি, এই ঘটনা স্পষ্টতই পুলিশের অপব্যবহার এবং প্রশাসনের পক্ষপাতিত্বের প্রমাণ। নির্বাচন কমিশন যেখানে পুলিশকে নিরপেক্ষ থাকার নির্দেশ দিচ্ছে, সেখানে সরকারি গাড়িতে তৃণমূল নেতার যাতায়াত নির্বাচনী বিধিভঙ্গের শামিল বলে অভিযোগ করেছেন বিরোধীরা।

সামাজিক মাধ্যমে এই ভিডিও ছড়িয়ে পড়তেই রাজ্য রাজনীতিতে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে সরকারি যানবাহন ব্যবহার করা কমিশনের নির্দেশিকার সরাসরি লঙ্ঘন। বিজেপি নেতা অর্জুন সিং এই বিষয়ে নির্বাচন কমিশন এবং পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (সিইও) দৃষ্টি আকর্ষণ করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে বিরোধীরা প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে সরব হয়েছেন। নির্বাচন কমিশনের কড়া নজরদারির মধ্যেই এহেন ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যেও ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। বর্তমানে ব্যারাকপুর মহকুমায় এই ইস্যুটিকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তেজনা তুঙ্গে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *