ভবানীপুরে নজরদারি চালাচ্ছে সাদা পোশাকের পুলিশ, নির্বাচন কমিশনে বিস্ফোরক অভিযোগ শুভেন্দু অধিকারীর

বিধানসভা নির্বাচনের উত্তপ্ত আবহে ভবানীপুর কেন্দ্রকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক সংঘাত চরমে পৌঁছেছে। রবিবার মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে ইমেল পাঠিয়ে এক গুরুতর অভিযোগ দায়ের করেছেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর দাবি, ভবানীপুর এলাকায় প্রচারের সময় সাদা পোশাকের পুলিশ কর্মীরা লাগাতার তাঁর ওপর নজরদারি চালাচ্ছেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে নতুন করে রাজনৈতিক টানাপোড়েন শুরু হয়েছে।
শুভেন্দু অধিকারী তাঁর অভিযোগে উল্লেখ করেছেন যে, তিনি যখনই সাধারণ ভোটার বা দলীয় কর্মীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করছেন, পুলিশ কর্মীরা তাঁদের পরিচয় ও যাবতীয় তথ্য সংগ্রহ করছে। বিরোধী দলনেতার মতে, এটি ভোটারদের মনে আতঙ্ক তৈরির একটি সুপরিকল্পিত কৌশল। তিনি সরাসরি শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে কলকাতা পুলিশকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহারের অভিযোগ তুলেছেন। তাঁর দাবি, এই ধরনের কার্যকলাপ নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও গণতান্ত্রিক রীতিনীতিকে বাধাগ্রস্ত করছে।
অভিযোগের সপক্ষে শুভেন্দু অধিকারী সোশ্যাল মিডিয়ায় নির্দিষ্ট কিছু ছবি ও তথ্য প্রকাশ করেছেন। সেখানে নজরদারি চালানো ব্যক্তিদের নাম ও পদবী উল্লেখ করে তিনি দাবি করেছেন যে, তাঁরা আদতে পুলিশ কর্মী। বিরোধী দলনেতা স্পষ্ট জানিয়েছেন, যাঁরা সাহস করে তাঁর সাথে দেখা করছেন, তাঁদের চিহ্নিত করা হচ্ছে যা আদতে ভোটারদের ওপর পরোক্ষ চাপ সৃষ্টির চেষ্টা। এই ঘটনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “ভবানীপুরে গণতন্ত্র আক্রান্ত”, এবং সাধারণ মানুষ ব্যালট বাক্সে এর উপযুক্ত জবাব দেবেন।
নির্বাচনী আবহে একজন শীর্ষস্থানীয় নেতার এমন গুরুতর অভিযোগে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মহলে। কলকাতা পুলিশের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে কমিশনকে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আর্জি জানিয়েছেন তিনি। এখন বিরোধী দলনেতার এই ইমেল ও প্রকাশিত প্রমাণের ভিত্তিতে নির্বাচন কমিশন কী ব্যবস্থা গ্রহণ করে, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে রাজ্যের রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ ও সাধারণ মানুষ।