দেওয়ালের পদ্ম না মুছলে বন্ধ হবে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, মেমারিতে তৃণমূল নেত্রীর হুঁশিয়ারিতে তুঙ্গে বিতর্ক

পূর্ব বর্ধমানের মেমারি ১ নম্বর ব্লক থেকে তৃণমূল কংগ্রেসের মহিলা সভানেত্রী গীতা দাসের একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে ব্যাপক শোরগোল পড়ে গিয়েছে। দলীয় এক কর্মসূচি থেকে তৃণমূল নেত্রী হুঁশিয়ারি দিয়ে জানান, যে সমস্ত বাড়ির দেওয়ালে পদ্মফুল আঁকা রয়েছে, তা অবিলম্বে মুছে ফেলতে হবে। অন্যথায় সেই সব পরিবারের ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পের সুবিধা বন্ধ করে দেওয়া হবে বলে তিনি সতর্ক করেন। নেত্রীর এই বিতর্কিত মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে।
গীতা দাসের এই মন্তব্যে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে যে, রাজনৈতিক মতাদর্শের ভিন্নতাকে সরাসরি সরকারি প্রকল্পের সুযোগ-সুবিধার সঙ্গে যুক্ত করা হচ্ছে। তাঁর এই বক্তব্যে সাধারণ মানুষের মধ্যে একদিকে যেমন আতঙ্ক ছড়িয়েছে, অন্যদিকে প্রশাসনিক স্তরেও সমালোচনার ঝড় উঠেছে। স্থানীয়দের একাংশের দাবি, রাজনৈতিক প্রচারের জন্য সরকারি প্রকল্পের সুবিধা বন্ধ করার হুমকি দেওয়া অনভিপ্রেত। এই ঘটনার পর থেকেই মেমারি এলাকায় রাজনৈতিক চাপানউতোর চরমে পৌঁছেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার রাজ্যের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং সংবেদনশীল সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্প। সেই প্রকল্পের সুবিধা কেড়ে নেওয়ার হুঁশিয়ারি সরাসরি সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক নিরাপত্তার ওপর আঘাত হানার শামিল। নেত্রীর এমন কড়া অবস্থান স্থানীয় ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক প্রথার সঙ্গে রাজনৈতিক আনুগত্যকে মিলিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হিসেবে দেখছেন অনেকে। সব মিলিয়ে গীতা দাসের এই বিতর্কিত ভিডিও এবং মন্তব্য এখন রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।