পার্লামেন্টে মাইনর তরুণীকে যৌন ‘উপহার’ দেওয়ার বিস্ফোরক অভিযোগ

ব্রিটেনের রাজনৈতিক অঙ্গনে শোরগোল ফেলে দিয়েছে এক নারী বা অ্যামেলিয়ার (পরিবর্তিত নাম) চাঞ্চল্যকর দাবি। তিনি অভিযোগ করেছেন, ২০০১-২০০২ সাল নাগাদ যখন তিনি অপ্রাপ্তবয়স্ক ছিলেন, তখন তাঁকে লন্ডনের পার্লামেন্ট ভবনে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। সেখানে একজন প্রভাবশালী রাজনীতিকের হাতে তাঁকে ‘উপহার’ হিসেবে তুলে দেওয়া হয় যৌন লালসা মেটানোর জন্য।
তদন্তে উঠে এসেছে যে, অ্যামেলিয়া যখন ওল্ডহামে কিশোরী ছিলেন, তখন তিনি একটি সুসংগঠিত ‘গ্রুমিং গ্যাং’ বা যৌন নিগ্রহকারী চক্রের খপ্পরে পড়েন। ওই চক্রের এক সদস্য তাঁকে নিজের ‘ভাইঝি’ পরিচয় দিয়ে কোনও নিরাপত্তা তল্লাশি ছাড়াই সরাসরি পার্লামেন্ট ভবনের ভেতর নিয়ে যায়। সেখানে একজন শীর্ষস্তরের নেতার সঙ্গে তাঁর পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয় এবং পরবর্তীতে একটি হোটেলে তাঁকে যৌনকর্মে বাধ্য করা হয়।
অ্যামেলিয়ার আরও অভিযোগ, রাজনৈতিক দলগুলোর সম্মেলনের সময় ম্যানচেস্টারের দামী হোটেলগুলোতে তাঁকে নিয়ে যাওয়া হতো। কড়া নিরাপত্তার বেষ্টনীতে থাকা সেই হোটেলগুলোতে বিভিন্ন কক্ষে পাঠিয়ে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের সঙ্গে তাঁকে জোরপূর্বক শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হতে বাধ্য করা হতো। দিনের পর দিন চলা এই ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা মনে করে বর্তমানে তিনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত।
দুর্ভাগ্যের বিষয় হলো, ২০২৩ সালে অ্যামেলিয়া তাঁর স্থানীয় এমপির কাছে এই বিষয়ে অভিযোগ জানালেও পার্লামেন্টারি কর্তৃপক্ষ যথাযথ পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছে। এমনকি পুলিশও প্রথম দিকে তাঁর মামলাটি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করেনি। তবে সম্প্রতি এক অভ্যন্তরীণ রিপোর্টে পুলিশ স্বীকার করেছে যে, অতীতে অভিযোগ সামলানোর ক্ষেত্রে তাদের ত্রুটি ছিল।
বর্তমানে বিষয়টি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। প্রশাসনের ওপর মহলে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের জড়িত থাকার সম্ভাবনা থাকায় ব্রিটিশ রাজনীতিতে রীতিমতো কম্পন শুরু হয়েছে। ভুক্তভোগী নারীর নিরাপত্তা এবং দোষীদের উপযুক্ত শাস্তির দাবিতে সরব হয়েছে বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন।
তদন্তকারী সংস্থাগুলো এখন অ্যামেলিয়ার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সেই সময়কার সিসিটিভি ফুটেজ এবং ভিজিটর লগ খতিয়ে দেখছে। পার্লামেন্টের মতো সুরক্ষিত স্থানে কীভাবে একজন কিশোরীকে পাচার করা সম্ভব হলো, সেই নিরাপত্তা ঘাটতি নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। প্রশাসনের নিরপেক্ষতা এখন অগ্নিপরীক্ষার মুখে।