তীব্র বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটে কিউবায় চরম বিপর্যয়, এক কোটি মানুষ অন্ধকারে

তীব্র বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটে কিউবায় চরম বিপর্যয়, এক কোটি মানুষ অন্ধকারে

বর্তমানে ইতিহাসের ভয়াবহতম সংকটের মুখে দাঁড়িয়ে আছে দ্বীপরাষ্ট্র কিউবা। জ্বালানি তেলের তীব্র অভাব দেশটিকে অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিয়েছে। পরিস্থিতি এতটাই শোচনীয় যে, দেশের অধিকাংশ অঞ্চলে দিনে ১২ থেকে ২০ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকছে না। প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ জনসংখ্যার এই দেশে গত কয়েক মাসে তিনবার সম্পূর্ণ ‘ব্ল্যাক আউট’ বা বিদ্যুৎহীন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, যা জনজীবনকে স্থবির করে দিয়েছে।

২০২৬ সালের মার্চ মাসে দেশটিতে পর পর তিনটি বড় ধরনের ব্ল্যাক আউট নথিভুক্ত করা হয়েছে। বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় জ্বালানি না থাকায় পুরনো বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো বন্ধ হয়ে গেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কিউবা সরকার জরুরি ব্যবস্থা হিসেবে অফিস-আদালতের কর্মঘণ্টা কমিয়ে দিয়েছে এবং জ্বালানি বিক্রির ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। বর্তমানে কেবল জরুরি পরিষেবাগুলোকেই অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

এই সংকটের মূল কারণ হিসেবে দীর্ঘদিনের মার্কিন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা এবং ভেনেজুয়েলা থেকে তেল আমদানিতে বাধার বিষয়টিকে চিহ্নিত করা হচ্ছে। মার্কিন চাপের মুখে মেক্সিকোসহ অন্যান্য দেশগুলোও কিউবায় জ্বালানি পাঠাতে হিমশিম খাচ্ছে। গত তিন মাসে দেশটিতে কোনো বড় তেলের ট্যাঙ্কার পৌঁছায়নি। উল্লেখ্য, কিউবা তার প্রয়োজনীয় জ্বালানির মাত্র ৪০ শতাংশ অভ্যন্তরীণভাবে উৎপাদন করে এবং বাকি ৬০ শতাংশ আমদানির ওপর নির্ভরশীল।

বিদ্যুৎহীনতার কারণে দেশটির স্বাস্থ্য পরিষেবা পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে। হাসপাতালের অপারেশনগুলো বন্ধ রয়েছে এবং জীবনদায়ী ওষুধের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। বিদ্যুৎ না থাকায় জল সরবরাহ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে এবং পচনশীল খাদ্যদ্রব্য নষ্ট হচ্ছে। রাস্তায় ময়লার স্তূপ জমে জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। কিউবার প্রেসিডেন্ট মিগুয়েল ডিয়াজ-কানেল এই পরিস্থিতিকে ‘মানবিক সংকট’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।

পরিবহন ব্যবস্থা অচল হয়ে পড়ায় সাধারণ মানুষ হেঁটে বা সাইকেলে যাতায়াত করতে বাধ্য হচ্ছেন। একদিকে খাদ্যদ্রব্যের আকাশচুম্বী দাম, অন্যদিকে রান্নার গ্যাস বা বিদ্যুতের অভাবে মানুষ এখন কাঠ ও কয়লা ব্যবহার করে খাবার তৈরি করছে। এই চরম অস্থিরতায় অনেক পরিবার দিনে মাত্র একবেলা খেয়ে দিনাতিপাত করছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) এবং জাতিসংঘ কিউবার এই বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *