উপবাস নয় খাদ্যাভ্যাস বদলে ওজন কমানোর সহজ উপায় জানালেন ডাক্তার শিবরামন

বর্তমান দ্রুতগতির জীবনে স্থূলতা বা অতিরিক্ত ওজন এক গুরুতর সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেকের ধারণা, ওজন কমানোর একমাত্র পথ হলো উপবাস করা বা খাবার ত্যাগ করা। তবে বিশিষ্ট চিকিৎসক ডাক্তার শিবরামন এই ধারণাকে সম্পূর্ণ ভুল বলে অভিহিত করেছেন। সম্প্রতি ‘স্পিচ বক্স’ ইউটিউব চ্যানেলে তিনি জানান, অভুক্ত না থেকে বরং সঠিক খাদ্যাভ্যাস এবং জীবনযাত্রায় পরিবর্তনের মাধ্যমেই স্থায়ীভাবে ওজন কমানো সম্ভব।
ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখার মূল চাবিকাঠি হলো রক্তে শর্করার মাত্রা স্থিতিশীল রাখা। ডাক্তার শিবরামনের মতে, আমাদের এমন খাবার নির্বাচন করতে হবে যা রক্তে চিনির পরিমাণ হঠাৎ বাড়িয়ে দেয় না। প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় কার্বোহাইড্রেটের পরিমাণ কমিয়ে প্রোটিন এবং ফাইবার সমৃদ্ধ খাবারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। এটি শরীরের পেশিকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি ঘন ঘন ক্ষুধা পাওয়ার প্রবণতাও হ্রাস করে।
ডায়েট চার্টে লো-গ্লাইসেমিক ইনডেক্স যুক্ত খাবার যেমন মিলেট বা খোসাসহ চাল রাখা অত্যন্ত কার্যকর। এছাড়া ডাল, ডিম ও ছোলার মতো উচ্চ প্রোটিনযুক্ত খাবার এবং প্রচুর পরিমাণে তাজা শাকসবজি ও ফলমূল গ্রহণ করা উচিত। রান্নার ক্ষেত্রে তিলের তেল বা চীনাবাদাম তেলের মতো স্বাস্থ্যকর চর্বি সীমিত পরিমাণে ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি শরীরকে আর্দ্র রাখতে সারাদিন পর্যাপ্ত জল পান করা জরুরি।
ডাক্তার শিবরামন তেল-মশলাযুক্ত ভাজা খাবার এবং রেড মিট বা লাল মাংস এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছেন। ওজন কমাতে রাতের খাবারের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রাতে সবসময় হালকা খাবার গ্রহণ করা উচিত এবং ঘুমানোর অন্তত দুই ঘণ্টা আগে রাতের ভোজন শেষ করা বাঞ্ছনীয়। এটি হজম প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে এবং শরীরে মেদ জমতে বাধা দেয়।
খাদ্যাভ্যাসের পাশাপাশি নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম ও পর্যাপ্ত ঘুম সুস্বাস্থ্যের জন্য অপরিহার্য। প্রতিদিন অন্তত ৩০ থেকে ৪৫ মিনিট দ্রুত হাঁটা বা ব্যায়াম করলে ওজন কমানোর প্রক্রিয়া দ্রুততর হয়। মানসিক চাপমুক্ত জীবন এবং সঠিক শৃঙ্খলার মাধ্যমে যে কেউ সুস্থভাবে শরীরের অতিরিক্ত মেদ ঝরিয়ে ফেলতে পারেন। এই ছোট ছোট পরিবর্তনগুলো দীর্ঘমেয়াদে শরীরকে ফিট রাখতে সাহায্য করে।