অরুণাচলের মুখ্যমন্ত্রী পেমা খাণ্ডুর পরিবারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির তদন্তে সিবিআই

অরুণাচলের মুখ্যমন্ত্রী পেমা খাণ্ডুর পরিবারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির তদন্তে সিবিআই

অরুণাচল প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী পেমা খাণ্ডুর পরিবারের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগের তদন্তভার কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই-এর হাতে তুলে দিল সুপ্রিম কোর্ট। অভিযোগ রয়েছে, গত ১০ বছরে খাণ্ডুর পরিবারের সঙ্গে যুক্ত চারটি সংস্থাকে নিয়ম বহির্ভূতভাবে প্রায় ১,২৭০ কোটি টাকার সরকারি কাজের বরাত দেওয়া হয়েছে। শীর্ষ আদালত এই ঘটনার প্রাথমিক তদন্ত বা প্রিলিমিনারি এনকোয়ারি (পিই) শুরু করার নির্দেশ দিয়েছে।

বিচারপতি বিক্রম নাথ, বিচারপতি সন্দীপ মেহতা এবং বিচারপতি এনভি আঞ্জারিয়ার ডিভিশন বেঞ্চ সোমবার এই গুরুত্বপূর্ণ রায় দেয়। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে সিবিআই এই তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু করবে। মূলত ১ জানুয়ারি ২০১৫ থেকে ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫-এর মধ্যে হওয়া সমস্ত সরকারি কাজের চুক্তি এবং ওয়ার্ক অর্ডার এই তদন্তের আওতায় থাকবে। তবে প্রয়োজনে এর বাইরের সময়সীমার লেনদেনও খতিয়ে দেখতে পারবে সংস্থাটি।

সুপ্রিম কোর্ট রাজ্য সরকারকে সিবিআই-এর সাথে পূর্ণ সহযোগিতার নির্দেশ দিয়েছে। চার সপ্তাহের মধ্যে সমস্ত প্রয়োজনীয় নথিপত্র তদন্তকারীদের হাতে তুলে দিতে হবে। মুখ্য সচিবকে এই প্রক্রিয়ায় সমন্বয় রক্ষার জন্য একজন নোডাল অফিসার নিয়োগের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে আদালত স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, কোনোভাবেই যেন কোনো তথ্যপ্রমাণ বা রেকর্ড নষ্ট না করা হয়।

আগামী ১৬ সপ্তাহের মধ্যে সিবিআই-কে তাদের প্রাথমিক তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে স্ট্যাটাস রিপোর্ট জমা দিতে হবে। ‘সেভ মন রিজন ফেডারেশন’ এবং ‘ভলান্টারি অরুণাচল সেনা’ নামক দুটি সংগঠনের জনস্বার্থ মামলার প্রেক্ষিতে এই রায় এসেছে। মামলায় মুখ্যমন্ত্রী পেমা খাণ্ডুর পাশাপাশি তাঁর পরিবারের অন্যান্য সদস্যদেরও পক্ষভুক্ত করা হয়েছিল।

এই নির্দেশ প্রকাশ্যে আসার পরই রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস এই ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ‘না খাউঙ্গা, না খানে দুঙ্গা’ স্লোগানকে কটাক্ষ করেছে। কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশের দাবি, এটি কেবল শুরু এবং বিজেপির আরও অনেক মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে এই ধরনের অভিযোগ রয়েছে। সব মিলিয়ে এই মামলার গতিপ্রকৃতি এখন জাতীয় রাজনীতির নজরে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *