ভোটের লড়াইয়ে তপ্ত বাংলা! এবার হাতিয়ার শব্দবাণ আক্রমণ ও পাল্টা আক্রমণে তুঙ্গে মোদি মমতার সংঘাত

লোকসভা নির্বাচনের দামামা বাজতেই পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পারদ তুঙ্গে। শাসক ও বিরোধী শিবিরের প্রচার যুদ্ধে এখন প্রধান হাতিয়ার হয়ে দাঁড়িয়েছে আক্রমণাত্মক ‘শব্দ’। রবিবার কোচবিহারের জনসভা থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তৃণমূলকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে জানান, নির্বাচনের পর দুর্নীতির প্রতিটি হিসাব কড়ায়-গণ্ডায় নেওয়া হবে। আইন তার নিজস্ব পথে চলবে এবং কোনো অপরাধীই ছাড় পাবে না বলে তিনি স্পষ্ট বার্তা দেন।
প্রধানমন্ত্রীর এই হুঁশিয়ারির পাল্টা জবাব দিতে দেরি করেননি তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার পালটা হুঙ্কার দিয়ে তিনি জানান, বেশি কথা বললে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে আইনি ব্যবস্থার মাধ্যমে জবাব দেওয়া হবে। প্রধানমন্ত্রীর ‘বেছে বেছে হিসাব’ নেওয়ার বার্তার প্রেক্ষিতে মুখ্যমন্ত্রী কার্যত চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেন, গণতন্ত্রের কাঠগড়ায় কাউকেই রেয়াত করা হবে না। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভোটের আগে এই বাগযুদ্ধ দুই শিবিরের কর্মী-সমর্থকদের চাঙ্গা করার কৌশল।
এই দ্বিমুখী লড়াইয়ে নতুন মাত্রা যোগ করেছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। জলঙ্গির প্রচার সভা থেকে তিনি ভোটারদের ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়ে বলেন, নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর বিরোধীদের প্রতিটি আক্রমণের জবাব সুদে-আসলে দেওয়া হবে। অন্যদিকে, বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষও প্রধানমন্ত্রীর সুরেই দাবি করেছেন যে, বাংলায় হিসাব নেওয়ার প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে। আপাতত ৪ মে-র নির্বাচনী ফলাফলের অপেক্ষায় শব্দবাণে একে অপরকে বিদ্ধ করছে যুযুধান দুই পক্ষ।