মানুষের চোখের পলক বারবার পড়ে কেন, অতিরিক্ত চোখের পাতা কাঁপা কি বিপদের সঙ্কেত

মানুষের চোখের কর্নিয়াকে বাইরের ধূলিকণা ও ময়লা থেকে রক্ষা করতে চোখের পাতা বা আইলিড অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এটি একটি পাতলা চামড়ার ভাঁজ যা স্বয়ংক্রিয়ভাবে চোখের উপরিভাগে অশ্রু গ্রন্থির তরল ছড়িয়ে দেয়। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে চোখ সর্বদা আর্দ্র ও পরিষ্কার থাকে এবং দৃষ্টি স্বচ্ছ হয়। চোখের কোণে জমা হওয়া ময়লা অনেক সময় অশ্রুর মাধ্যমে বের হয়ে আসে।
একজন সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ প্রতি মিনিটে গড়ে ১৫ থেকে ২০ বার পলক ফেলেন। সেই হিসেবে দিনে প্রায় ১৪ হাজার ৪০০ থেকে ১৯ হাজার ২০০ বার পলক পড়ে। তবে কম্পিউটার বা ফোনের স্ক্রিনের দিকে দীর্ঘক্ষণ তাকিয়ে থাকলে এই হার অস্বাভাবিকভাবে কমে যায়। এতে কর্নিয়া শুকিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়, যা চোখের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।
শিশুরা প্রাপ্তবয়স্কদের তুলনায় অনেক কম পলক ফেলে, যা মিনিটে মাত্র ২ থেকে ৩ বার। অন্যদিকে, হ্যামস্টারের মতো কিছু প্রাণী একসঙ্গে মাত্র একটি চোখের পলক ফেলে। পাখি ও সরীসৃপদের ক্ষেত্রে ‘নিক্টিটেটিং মেমব্রেন’ বা তৃতীয় চোখের পাতা থাকে। এটি একটি স্বচ্ছ স্তর, যা তাদের পলক ফেলার সময়ও পরিষ্কারভাবে দেখতে সাহায্য করে এবং চোখ সুরক্ষিত রাখে।
ক্লান্তি, অতিরিক্ত ক্যাফেইন গ্রহণ বা চোখের শুষ্কতার কারণে অনেক সময় চোখ কাঁপা বা অতিরিক্ত পলক পড়ার সমস্যা দেখা দেয়। তবে এটি যদি দীর্ঘস্থায়ী হয়, তবে তা গুরুতর স্নায়বিক সমস্যার লক্ষণ হতে পারে। উইলসন রোগ, মাল্টিপল স্কেলেরোসিস বা ট্যুরেট সিনড্রোমের মতো ব্যাধিতে আক্রান্ত রোগীদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত পলক ফেলার প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়।
চিকিৎসকদের মতে, নীল বা সবুজ চোখের অধিকারীরা আলোর প্রতি বেশি সংবেদনশীল হন, ফলে উজ্জ্বল পরিবেশে তাদের বেশি পলক পড়ে। চোখের এই ক্লান্তি দূর করতে ‘২০-২০-২০’ নিয়ম বেশ কার্যকর। অর্থাৎ প্রতি ২০ মিনিট স্ক্রিন ব্যবহারের পর ২০ সেকেন্ড ধরে ২০ ফুট দূরের কোনো বস্তুর দিকে তাকালে চোখ প্রয়োজনীয় বিশ্রাম পায় এবং সুস্থ থাকে।