ঢাকায় আটক সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী, গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী মামলায় গোয়েন্দা জালে ‘হাসিনার কন্যা’

বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীকে আটক করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)। সোমবার গভীর রাতে রাজধানীর ধানমন্ডি এলাকার নিজ বাসভবন থেকে তাঁকে হেফাজতে নেওয়া হয়। ডিবির একটি বিশেষ দল বর্তমানে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে। তবে তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে পেশ করা হবে কি না, সে বিষয়ে এখনও স্পষ্ট কোনো ঘোষণা আসেনি।
২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রপতি সংসদ ভেঙে দিলেও সাংবিধানিক নিয়ম অনুযায়ী স্পিকার পদে বহাল ছিলেন শিরীন শারমিন। তবে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কালে সেপ্টেম্বরের শুরুতে তিনি রাষ্ট্রপতির কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন। অভিযোগ রয়েছে, পদত্যাগের জন্য তাঁর ওপর প্রবল চাপ সৃষ্টি করা হয়েছিল এবং তাঁর ও তাঁর স্বামীর ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করা হয়েছিল। ইতিপূর্বে ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকু গ্রেফতার হলেও শিরীন শারমিন এতদিন মুক্ত ছিলেন।
২০১৩ সাল থেকে টানা দুই মেয়াদে স্পিকারের দায়িত্ব পালন করা শিরীন শারমিন চৌধুরী শেখ হাসিনার অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। রংপুরের রাজনীতিতে সক্রিয় এই নেত্রীকে হাসিনা জনসমক্ষে ‘নিজের কন্যা’ হিসেবে সম্বোধন করতেন। আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক পদে বড় কোনো দায়িত্বে না থাকলেও দলীয় প্রধানের ব্যক্তিগত পছন্দের কারণে তিনি ক্ষমতার কেন্দ্রে যথেষ্ট প্রভাবশালী ছিলেন। শেখ হাসিনা নিজেই তাঁর হয়ে নির্বাচনী প্রচারণায় ভোট চাইতেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গণঅভ্যুত্থান চলাকালীন স্বর্ণশিল্পী মুসলিম উদ্দিন হত্যাকাণ্ডের মামলায় সাবেক স্পিকারের নাম রয়েছে। নিহতের স্ত্রী দিলরুবা আক্তারের দায়ের করা ওই মামলায় শেখ হাসিনা ও সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশির পাশাপাশি শিরীন শারমিনকেও অভিযুক্ত করা হয়েছে। উল্লেখ্য, এই মামলার অন্যতম অভিযুক্ত টিপু মুনশি বর্তমানে কারাগারে বন্দি রয়েছেন। দীর্ঘ জল্পনার পর সাবেক এই স্পিকারের আটক হওয়া বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।