নিশ্চিত মৃত্যু মুখ থেকে ফিরে আসা, ৪ দিন অভুক্ত থেকে ঘন জঙ্গলে যুবতীর জীবনযুদ্ধ

নিশ্চিত মৃত্যু মুখ থেকে ফিরে আসা, ৪ দিন অভুক্ত থেকে ঘন জঙ্গলে যুবতীর জীবনযুদ্ধ

খাবার নেই, পানীয় জল বলতে পাহাড়ি ঝরনা আর ফোনের চার্জ শেষ হয়ে যাওয়ায় বাইরের জগতের সঙ্গে সব যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন। এই চরম প্রতিকূলতার মধ্যে কর্ণাটকের থাড়িয়ান্দামল পাহাড়ের ঘন জঙ্গলে টানা চারদিন অতিবাহিত করলেন জিএস শরণ্যা নামে এক পেশাদার প্রযুক্তিবিদ। পেশায় সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হলেও ট্রেকিং ছিল তাঁর নেশা। কিন্তু এক মুহূর্তের অসতর্কতায় সেই নেশাই তাঁর জীবনকে বিপন্ন করে তুলেছিল।

ঘটনার সূত্রপাত হয় যখন শরণ্যা অন্য একদল ট্রেকারের সঙ্গে থাড়িয়ান্দামল পাহাড়ে চড়তে যান। পাহাড় থেকে নামার সময় সহযাত্রীদের চেয়ে কিছুটা এগিয়ে যান তিনি। এক সময় পিছনে তাকিয়ে কাউকে দেখতে না পেয়ে পথ খুঁজতে গিয়েই বিপত্তি ঘটে। মূল রাস্তা হারিয়ে তিনি ঢুকে পড়েন জঙ্গলের গহীন অংশে। বিপদ বুঝে হোম স্টের মালিককে ফোন করলেও কথা শেষ হওয়ার আগেই তাঁর ফোনের চার্জ ফুরিয়ে যায়।

এরপর শুরু হয় এক দীর্ঘ লড়াই। সঙ্গে থাকা মাত্র ৫০০ মিলিলিটারের জলের বোতল দ্রুত ফুরিয়ে যায়, আর কোনো খাবারও তাঁর কাছে ছিল না। সম্বল বলতে ছিল পাহাড়ের রুক্ষ পাথর আর ঝরনার জল। চারপাশ থেকে ভেসে আসা বন্যজন্তুর ডাক আর ঘন অন্ধকারের মধ্যে চারটে রাত একাই কাটিয়েছেন তিনি। কোনো মানুষের চিহ্ন না থাকায় চিৎকার করেও সাহায্য মেলেনি।

খাবার ছাড়া কেবল ঝরনার জল খেয়ে টানা চারদিন নিজের মনোবল ধরে রেখেছিলেন এই যুবতী। চতুর্থ দিনে ওই পাহাড়ি এলাকার কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দার নজরে পড়েন তিনি। তাঁরাই দ্রুত তাঁকে উদ্ধার করে সুরক্ষিত স্থানে নিয়ে যান। উদ্ধারের পর স্থানীয়রা জানিয়েছেন, শরণ্যা জঙ্গলের এমন এক গভীর অংশে পৌঁছে গিয়েছিলেন যেখানে সাধারণ মানুষের যাতায়াত নেই বললেই চলে।

দীর্ঘ অভুক্ত অবস্থায় থাকলেও বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন এবং তাঁর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল। এই ঘটনা যেমন ট্রেকারদের কাছে এক সতর্কবার্তা, তেমনই প্রতিকূল পরিস্থিতিতে শরণ্যার অদম্য টিকে থাকার লড়াই সকলকে অবাক করেছে। স্থানীয় প্রশাসন ও উদ্ধারকারীরা তাঁর এই ফিরে আসাকে ‘মিরাকল’ বলেই অভিহিত করছেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *