দেশের প্রথম ‘ওপেনলি কুইয়ার’ সাংসদ মেনকা গুরুস্বামী! সংসদীয় রাজনীতিতে নয়া ইতিহাস তৃণমূল প্রার্থীর

সোমবার ভারতের সংসদীয় ইতিহাসে এক অনন্য নজির সৃষ্টি করলেন ডক্টর মেনকা গুরুস্বামী। দেশের প্রথম ‘ওপেনলি কুইয়ার’ বা সমকামী সাংসদ হিসেবে শপথ গ্রহণ করলেন তিনি। পশ্চিমবঙ্গ থেকে তৃণমূল কংগ্রেসের (TMC) টিকিটে উচ্চকক্ষে পৌঁছেছেন দেশের এই প্রথিতযশা আইনজীবী। শপথ নেওয়ার পরেই সমাজমাধ্যমে তাঁকে নিয়ে আলোচনার ঝড় উঠেছে এবং নেটিজেনদের অভিনন্দনে ভাসছেন তিনি।
পেশাগত জীবনে ডক্টর মেনকা গুরুস্বামী সুপ্রিম কোর্টের একজন বিশিষ্ট আইনজীবী। ১৯৭৪ সালের ২৭ নভেম্বর হায়দ্রাবাদে জন্ম নেওয়া মেনকা ভারতীয় বিচারব্যবস্থা ও মানবাধিকার রক্ষায় দীর্ঘকাল ধরে কাজ করছেন। তিনি নিউইয়র্কের কলম্বিয়া ল’ স্কুলে বি আর আম্বেদকর রিসার্চ স্কলার ও লেকচারার হিসেবে যুক্ত ছিলেন। এ ছাড়াও ইয়েল ল’ স্কুল ও টরন্টো বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিজিটিং ফ্যাকাল্টি হিসেবে তাঁর শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা রয়েছে।
আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমে সামাজিক পরিবর্তনের এক বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর হিসেবে মেনকা পরিচিত। বিশেষ করে ২০১৮ সালে সুপ্রিম কোর্টের ঐতিহাসিক রায়ে সমকামিতাকে অপরাধমুক্ত করার ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকা ছিল অপরিসীম। ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৭৭ ধারা রদের লড়াইতে তিনি ছিলেন অন্যতম প্রধান মুখ। এ ছাড়াও শিক্ষার অধিকার (RTE) আইনের সাংবিধানিক বৈধতা বজায় রাখা এবং সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের বেসরকারি স্কুলে সংরক্ষণের দাবিতেও তিনি সফল আইনি লড়াই লড়েছেন।
মণিপুরে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে সরব হওয়া থেকে শুরু করে পুলিশি সংস্কার—মানবাধিকার ইস্যুতে মেনকা সব সময়ই আপসহীন। যদিও এই কারণে বহুবার তাঁকে রাজনৈতিক সমালোচনার সম্মুখীন হতে হয়েছে। তবে আইনি জটিলতা নিরসন এবং সামাজিক সংস্কারের স্বার্থে তিনি সবসময়ই নির্ভীক থেকেছেন। এবার সেই লড়াইকে সংসদের অন্দরে নিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেলেন তিনি।
মেনকার এই সংসদীয় যাত্রা এলজিবিটিকিউ+ (LGBTQ+) সম্প্রদায়ের জন্য এক বড় জয় হিসেবে দেখা হচ্ছে। ‘ওপেনলি কুইয়ার’ অর্থাৎ যাঁরা নিজেদের লিঙ্গপরিচয় বা যৌন প্রবৃত্তি সমাজ থেকে গোপন না করে প্রকাশ্যেই স্বীকার করেন। মেনকার এই সাহসিকতা ও রাজনৈতিক উত্তরণ আগামী দিনে দেশের প্রান্তিক মানুষদের অধিকার সুনিশ্চিত করতে বড় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।