ট্রাম্পের ডেডলাইন শেষ হওয়ার মুখে ইরানের ১০ শর্তে কড়া পালটা চাল

পশ্চিম এশিয়ার চলমান সংঘাত অবসানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শান্তি প্রস্তাবে আনুষ্ঠানিক জবাব দিল ইরান। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় পাঠানো এই জবাবে ইরান সাফ জানিয়েছে, তারা কোনো সাময়িক যুদ্ধবিরতি নয়, বরং যুদ্ধের স্থায়ী সমাপ্তি চায়। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আইআরএনএ (IRNA) নিশ্চিত করেছে যে, তেহরান ১০টি সুনির্দিষ্ট শর্তের ভিত্তিতে এই প্রস্তাবের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বেঁধে দেওয়া যুদ্ধবিরতির সময়সীমা শেষ হওয়ার ঠিক আগে ইরানের এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক মহলে শোরগোল ফেলে দিয়েছে। ট্রাম্প একদিকে যেমন ইরানের সামরিক শক্তির প্রশংসা করেছেন, অন্যদিকে মঙ্গলবার পর্যন্ত তাঁর দেওয়া আলটিমেটামকে চূড়ান্ত বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তবে তেহরান তাদের দাবিতে অনড় অবস্থানে রয়েছে।
ইরানের দেওয়া ১০টি শর্তের মধ্যে অন্যতম হলো ভবিষ্যতে ইরানের ওপর কোনো হামলা চালানো হবে না—এমন গ্যারান্টি প্রদান এবং লেবাননে ইজরায়েলি হামলা অবিলম্বে বন্ধ করা। এ ছাড়া ইরানের ওপর আরোপিত সমস্ত মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং আঞ্চলিক ক্ষেত্রে তেহরানের মিত্রদের বিরুদ্ধে লড়াই বন্ধ করার দাবি জানানো হয়েছে। এই শর্তগুলো পূরণ হলেই ইরান স্থিতিশীলতার পথে হাঁটবে বলে জানিয়েছে।
সবচেয়ে আলোচিত প্রস্তাবটি হলো হরমুজ প্রণালী সংক্রান্ত। ইরান জানিয়েছে, শর্ত মানলে তারা হরমুজ প্রণালী খুলে দেবে। তবে কৌশলগত এই জলপথ দিয়ে যাতায়াতকারী প্রতিটি জাহাজের ওপর ২ মিলিয়ন ডলার করে ‘হরমুজ শুল্ক’ আরোপ করার পরিকল্পনা করছে তেহরান। এই শুল্কের অর্থ ওমানের সঙ্গে ভাগাভাগি করা হবে এবং তা যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে পুনর্গঠন কাজে ব্যয় করা হবে।
হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, তারা এই ৪৫ দিনের যুদ্ধবিরতি ও প্রস্তাবিত শর্তগুলো বিবেচনা করছে। তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এখনো কোনো চূড়ান্ত অনুমোদন দেননি। মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, একাধিক বিকল্প নিয়ে আলোচনা চলছে, তবে বর্তমানে সামরিক অভিযান ‘এপিক ফিউরি’ অব্যাহত থাকবে। বিশ্ব এখন তাকিয়ে আছে ট্রাম্পের পরবর্তী পদক্ষেপ ও হরমুজ প্রণালীর ভবিষ্যতের দিকে।