বাবা ও ছেলের বয়সের পার্থক্যে কাটবে না নাম, ট্রাইব্যুনালের নির্দেশে স্বস্তিতে কংগ্রেস প্রার্থী

পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকার বিশেষ যাচাইকরণ বা এসআইআর প্রক্রিয়ায় বড়সড় ধাক্কা খাওয়ার পর শেষ পর্যন্ত আইনি লড়াইয়ে জয়ী হলেন কংগ্রেস প্রার্থী মহম্মদ মোত্তাকিন আলম। বাবার সঙ্গে বয়সের ব্যবধান ৫০ বছর— এই যুক্তিতে তাঁর নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দিয়েছিল নির্বাচন কমিশন। তবে মোত্তাকিনের আবেদনের ভিত্তিতে ট্রাইব্যুনাল স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, বাবা ও ছেলের বয়সের পার্থক্যের ওপর ভিত্তি করে কারও ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া যায় না।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, ওপার বাংলা থেকে আসা অনুপ্রবেশকারীরা অনেক সময় জাল নথি তৈরি করে ভোটার তালিকায় নাম তোলে, যা রুখতে এবার কড়া অবস্থান নিয়েছিল কমিশন। মোত্তাকিনের বাবার নাম ১৯৭১ সাল থেকেই ভোটার তালিকায় ছিল এবং মোত্তাকিন নিজেও প্রাক্তন বিধায়ক। তা সত্ত্বেও নথিতে নামের সামান্য অমিল এবং বয়সের এই বড় ব্যবধানকে ‘যুক্তিগত অসঙ্গতি’ হিসেবে চিহ্নিত করে কমিশন তাঁর নাম বাদ দিয়েছিল। বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ালে সুপ্রিম কোর্ট দ্রুত নিষ্পত্তির নির্দেশ দেয়।
নথিপত্র খতিয়ে দেখে ট্রাইব্যুনাল জানিয়েছে, বিভিন্ন নথিতে নামের বানান বা ধরনে কিছুটা পার্থক্য থাকলেও ভোটার কার্ডের নম্বর অভিন্ন রয়েছে, যা প্রার্থীর সত্যতা প্রমাণ করে। রায়দানকালে ট্রাইব্যুনাল সাফ জানায়, ভোটারের বাবা-মায়ের পরিচয় বা বয়সের ব্যবধান নিয়ে প্রশ্ন তোলা তাদের এক্তিয়ারভুক্ত নয়। এই রায়ের ফলে দীর্ঘ টালবাহানার অবসান ঘটল এবং কংগ্রেস প্রার্থীর নির্বাচনে লড়ার পথ প্রশস্ত হলো। মোত্তাকিন আলমের এই জয় সাধারণ ভোটারদের ক্ষেত্রেও একটি বড় দৃষ্টান্ত হয়ে রইল।