ভাতারের নিত্যানন্দপুরে বিজেপি প্রার্থীর প্রচারে রণক্ষেত্র, এলাকা পরিস্থিতি সামাল দিতে মোতায়েন বিশাল পুলিশ বাহিনী

রাজ্য রাজনীতির পারদ চড়তেই রণক্ষেত্রের চেহারা নিল ভাতার বিধানসভার নিত্যানন্দপুর অঞ্চল। সোমবার বিজেপি প্রার্থী সৌমেন কার্ফার প্রচারকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তেজনা চরমে ওঠে। প্রচার চলাকালীন তৃণমূল ও বিজেপি—উভয় পক্ষের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষের জেরে এলাকা উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এলাকায় পৌঁছায় বিশাল পুলিশ বাহিনী, যদিও উত্তেজনা প্রশমিত করতে হিমশিম খেতে হয় তাদের।
বিজেপি প্রার্থী সৌমেন কার্ফার অভিযোগ, বৈধ অনুমতি নিয়ে প্রচারে বের হওয়া সত্ত্বেও তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা তাঁদের মিছিলে অতর্কিত হামলা চালায়। মিছিলে ইট-পাটকেল ছোঁড়ার পাশাপাশি সাউন্ড সিস্টেমের তার খুলে দেওয়া এবং বাদ্যযন্ত্রীদের মারধরের চেষ্টা করা হয় বলেও তিনি দাবি করেন। বিজেপি শিবিরের আরও অভিযোগ, ইতিপূর্বেও তাঁদের কর্মীদের অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে এবং প্রচারের একাধিক ফ্লেক্স ছিঁড়ে দেওয়া হয়েছে। সংবিধান ও নির্বাচন কমিশনের প্রতি আস্থা থাকলেও বারবার আক্রমণের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিজেপি প্রার্থী।
অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। পূর্ব বর্ধমান জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক বাগবুল ইসলাম পালটা দাবি করেন, বিজেপি ইচ্ছাকৃতভাবে এলাকায় অশান্তি সৃষ্টির চেষ্টা করছে। তাঁর মতে, পরাজয় নিশ্চিত জেনে মানুষের সাড়া না পেয়ে বিজেপি কর্মীরা বেলাগাম কুৎসা করছেন। তৃণমূলের তরফে স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে, কারোর প্রচারে বাধা দেওয়ার কোনো প্রয়োজন তাঁদের নেই।
এই ঘটনার পর থেকে নিত্যানন্দপুর ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে পুলিশের পক্ষ থেকে কড়া টহলদারি চালানো হচ্ছে। নির্বাচনের মুখে এমন সংঘর্ষের ঘটনায় এলাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়েছে এবং প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সজাগ দৃষ্টি রাখছে স্থানীয় থানা।