১০ বছরে মৎস্য উৎপাদনে দ্বিগুণ বৃদ্ধি, ভারতের নীল বিপ্লবে বিশ্বজয়

মৎস্য চাষে বিশ্বমঞ্চে নজিরবিহীন সাফল্য অর্জন করল ভারত। বিগত এক দশকে দেশের বার্ষিক মাছ উৎপাদনের পরিমাণ অবিশ্বাস্যভাবে দ্বিগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। সরকারের গৃহীত বিশেষ পদক্ষেপ এবং আধুনিক পরিকাঠামো উন্নয়নের হাত ধরে এই সাফল্য এসেছে, যা দেশের নীল বিপ্লবকে এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এই দীর্ঘ মেয়াদে মাছের উৎপাদন পূর্বের তুলনায় কয়েক গুণ বেড়ে ভারতের অর্থনীতিতে শক্তিশালী প্রভাব ফেলেছে।
২০১৩-১৪ অর্থবর্ষে ভারতের বার্ষিক মৎস্য উৎপাদনের পরিমাণ ছিল মাত্র ৯৫.৭৯ লক্ষ টন। তবে কেন্দ্রীয় সরকারের বিশেষ নীল বিপ্লব কর্মসূচির অধীনে মৎস্য চাষকে অগ্রাধিকার দেওয়ায় পাল্টে যায় প্রেক্ষাপট। ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে এই উৎপাদনের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়ে পৌঁছেছে ১৯৭.৭৫ লক্ষ টনে। মাত্র ১০ বছরের ব্যবধানে এই বিপুল উন্নয়ন মৎস্যজীবীদের জীবনযাত্রায় ইতিবাচক পরিবর্তন এনেছে।
বর্তমানে বিশ্বব্যাপী মৎস্য উৎপাদনের প্রায় ৮ শতাংশ এককভাবে ভারতের দখলে। প্রধানমন্ত্রী মৎস্য সম্পদ যোজনার মতো যুগান্তকারী প্রকল্পগুলি মৎস্য চাষে আধুনিক প্রযুক্তির প্রয়োগ সুনিশ্চিত করেছে। উন্নত পরিকাঠামো নির্মাণ এবং মৎস্যজীবীদের সহজ শর্তে ঋণ প্রদানের ফলে অভ্যন্তরীণ ও সামুদ্রিক উভয় ক্ষেত্রেই মাছ ধরা ও চাষের ব্যাপক উন্নতি ঘটেছে।
মৎস্যজীবীদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে সরকারি প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও করা হয়েছে। নদী এবং সমুদ্রে মৎস্য আহরণের আধুনিক কৌশল শেখানোর মাধ্যমে উৎপাদনশীলতা বাড়ানো সম্ভব হয়েছে। মৎস্য খাতের এই রমরমা অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি বিদেশে মাছ রপ্তানির মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনেও বিশেষ ভূমিকা পালন করছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কেন্দ্রীয় সহায়তা এবং আধুনিকীকরণের এই ধারা বজায় থাকলে আগামীতে ভারতের মৎস্য উৎপাদন আরও শক্তিশালী শিখরে পৌঁছাবে। সরকারের ধারাবাহিক নীতি ও মৎস্যজীবীদের নিরলস প্রচেষ্টায় ভারত আজ মৎস্য উৎপাদনে বিশ্বের অন্যতম নিয়ন্ত্রক শক্তি হয়ে উঠেছে। দেশের আর্থিক প্রবৃদ্ধি এবং খাদ্য সুরক্ষায় এই সাফল্যের গুরুত্ব অপরিসীম।