অক্ষয়তৃতীয়ার গণবিবাহে বাল্যবিবাহ রুখতে মরিয়া মধ্যপ্রদেশ সরকার

পবিত্র অক্ষয়তৃতীয়া তিথিতে মধ্যপ্রদেশ জুড়ে ধুমধাম করে আয়োজিত হতে চলেছে গণবিবাহের অনুষ্ঠান। তবে এই পুণ্য লগ্নে উৎসবের আবহের মাঝেই উদ্বেগের মেঘ দেখছে সে রাজ্যের সরকার। প্রতি বছরের মতো এবারও গণবিবাহের আড়ালে বাল্যবিবাহের আশঙ্কা মাথাচাড়া দিচ্ছে, যা প্রশাসনের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে।
সাধারণত অক্ষয়তৃতীয়ার মতো শুভ দিনে বহু পরিবার একসঙ্গে তাদের সন্তানদের বিবাহ সম্পন্ন করে। কিন্তু এই সুযোগেই অনেক ক্ষেত্রে অপ্রাপ্তবয়স্ক ছেলে-মেয়েদের বিয়ের পিঁড়িতে বসিয়ে দেওয়ার প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়। এই সামাজিক ব্যাধি রুখতে এবার কোমর বেঁধে নেমেছে মধ্যপ্রদেশের মহিলা ও শিশু উন্নয়ন বিভাগ। আগামী ২০ এপ্রিল রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে হতে চলা গণবিবাহের অনুষ্ঠানগুলিতে কঠোর নজরদারি চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মধ্যপ্রদেশে গত কয়েক বছরে বাল্যবিবাহের হার আগের তুলনায় অনেকটাই হ্রাস পেয়েছে। তা সত্ত্বেও প্রত্যন্ত কিছু এলাকায় এখনও এই কুপ্রথা পুরোপুরি নির্মূল করা সম্ভব হয়নি। বিশেষ করে ধর্মীয় উৎসব ও গণবিবাহের আড়ালে আইনি ফাঁক গলে বাল্যবিবাহ দেওয়ার চেষ্টা করে এক শ্রেণির মানুষ। এবার সেই পথে পুরোপুরি লাগাম টানতে চায় প্রশাসন।
কেন্দ্রীয় সরকারের ‘বাল্যবিবাহ মুক্ত ভারত’ গড়ার যে লক্ষ্য রয়েছে, মধ্যপ্রদেশ সরকারের এই সক্রিয়তা সেই উদ্দেশ্যকে আরও শক্তিশালী করবে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রতিটি বিবাহ আসরে বর ও কনের বয়সের প্রমাণপত্র যাচাই করা হবে। কোনোভাবেই যাতে আইনি বয়সের নিচে কারো বিয়ে না হয়, তা নিশ্চিত করতে স্থানীয় স্তরে কর্মকর্তাদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
সামাজিকভাবে গণবিবাহ একটি মহৎ উদ্যোগ হিসেবে পরিচিত হলেও, এর অপব্যবহার রোধ করা এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। অক্ষয়তৃতীয়ার পুণ্য লগ্নে যাতে কোনো নাবালিকার শৈশব হারিয়ে না যায়, সেজন্য মাঠ পর্যায়ের কর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকেও সচেতন থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। কঠোর নজরদারির মাধ্যমে এই কুপ্রথা বন্ধ করে একটি সুস্থ সমাজ গড়াই এখন রাজ্য সরকারের মূল লক্ষ্য।