ভোটের মুখে জোর ধাক্কা খেলেন হুমায়ুন কবির, জেইউপি ছেড়ে ফের তৃণমূলে ফিরছেন পূর্বস্থলীর ২ দাপুটে নেতা

পূর্ব বর্ধমান জেলার পূর্বস্থলী উত্তর বিধানসভা কেন্দ্রে নির্বাচনের ঠিক মুখে বড়সড় রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ঘটল। হুমায়ূন কবিরের দল ‘আম জনতা উন্নয়ন পার্টি’ (জেইউপি) ছেড়ে পুনরায় তৃণমূল কংগ্রেসের পতাকা ধরতে চলেছেন দুই বর্ষীয়ান নেতা ফজলুল হক মন্ডল ও পঙ্কজ গাঙ্গুলী। সোমবার সমুদ্রগড়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জনসভায় তাঁরা আনুষ্ঠানিকভাবে পুরনো দলে যোগ দেবেন। তাঁদের এই দলবদলকে ঘিরে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
জানা গিয়েছে, দুই বর্ষীয়ান নেতার সঙ্গেই প্রায় ৮০০ কর্মী-সমর্থক আজ তৃণমূলে যোগ দিতে সমুদ্রগড়ে পৌঁছে গিয়েছেন। মূলত গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের জেরে কিছুদিন আগে ফজলুল হক মন্ডল ও পঙ্কজ গাঙ্গুলী তৃণমূল ছেড়ে জেইউপিতে নাম লিখিয়েছিলেন। তবে সম্প্রতি পূর্বস্থলী উত্তরের তৃণমূল প্রার্থী বসুন্ধরা গোস্বামী তাঁদের মানভঞ্জনে উদ্যোগী হন। সেই আলোচনার প্রেক্ষিতেই যাবতীয় মান-অভিমান সরিয়ে রেখে ফের ঘাসফুল শিবিরের হাত ধরার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তাঁরা।
তৃণমূলে ফেরার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ফজলুল হক মন্ডল জেইউপি-র কর্মপদ্ধতি ও নিয়মকানুন নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তিনি সাফ জানিয়েছেন, তৃণমূল তাঁদের পুরনো জায়গা এবং সেখানে থাকতেই তাঁরা স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। এখানেই শেষ নয়, হুমায়ূন কবিরের নতুন দল গঠনের সিদ্ধান্তকে ‘ভুল’ বলে উল্লেখ করার পাশাপাশি তাঁকে “মহম্মদ বিন তুঘলক” বলেও কটাক্ষ করেছেন এই বর্ষীয়ান নেতা।
ভোটের প্রচার যখন তুঙ্গে, ঠিক সেই মুহূর্তে এই দুই পরিচিত মুখের দলত্যাগ হুমায়ূন কবিরের দলের জন্য বড়সড় ধাক্কা বলে মনে করা হচ্ছে। এর ফলে পূর্বস্থলী উত্তর কেন্দ্রে তৃণমূলের সাংগঠনিক শক্তি যেমন বৃদ্ধি পেল, তেমনি জেইউপি-র অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই আরও কঠিন হয়ে দাঁড়াল। এই দলবদল নির্বাচনের ফলাফলে কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে জেলার রাজনৈতিক মহল।