বাংলার হার না মানা লড়াই: ধর্মীয় বিভাজনের বিরুদ্ধে মুর্শিদাবাদে মমতার হুঙ্কার

বিজেপির বিভাজনের রাজনীতির বিরুদ্ধে কড়া সুর চড়িয়ে মুর্শিদাবাদের জিয়াগঞ্জ ও সামশেরগঞ্জের জনসভা থেকে সংহতির বার্তা দিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি স্পষ্ট জানান, ধর্ম মানুষের মনে ও প্রাণে থাকে, একে রাজনীতির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা অনুচিত। বিজেপি ধর্মের নামে দাঙ্গা লাগিয়ে বাংলা ভাগ করতে চাইছে বলে অভিযোগ তুলে তিনি ঘোষণা করেন, বাংলার মানুষ একজোট হয়ে এই অপশক্তিকে রুখে দেবে এবং ২০২৬-এর নির্বাচনে বিজেপির পতন নিশ্চিত করে দিল্লি দখল করবে।
ভোটার তালিকায় নাম বাদ পড়া এবং পরিযায়ী শ্রমিকদের হেনস্তা নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারকে তীব্র আক্রমণ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি দাবি করেন, মুর্শিদাবাদসহ খোদ ভবানীপুরেও হাজার হাজার মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। অনুপ্রবেশকারী অজুহাতে ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া হলে সেই ভোটে জয়ী মোদি-শাহ সরকারের পদত্যাগ করা উচিত বলেও তিনি মন্তব্য করেন। পাশাপাশি, বিজেপি শাসিত রাজ্যে বাঙালি শ্রমিকদের ওপর অত্যাচারের প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি সম্প্রীতির ঐতিহ্য বজায় রাখার আহ্বান জানান।
নির্বাচনী লড়াইয়ে জয়ের বিষয়ে আত্মবিশ্বাসী মমতা দলীয় কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থাকার নির্দেশ দেন। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, রাজ্যের ২৯৪টি আসনেই তিনি আসল প্রার্থী, তাই জোড়াফুল চিহ্নে ভোট দিয়ে তৃণমূলকে জয়ী করাই লক্ষ্য হওয়া উচিত। বেলুড় মঠের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, স্বামী বিবেকানন্দের আদর্শ মেনে বাংলা সবসময়ই সর্বধর্ম সমন্বয়ের পথে চলবে। পরিশেষে, বহিরাগত শক্তির বিরুদ্ধে স্থানীয় মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিবাদকে গণতন্ত্রের জয় হিসেবে অভিহিত করেন তিনি।