কালিয়াচক কাণ্ডে এডিএমকে জোড়া শোকজ, মালদা জেলা শাসকের ৭ দিনের ডেডলাইন

মালদার কালিয়াচকে বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের ঘেরাও এবং নিগ্রহের ঘটনায় কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করল জেলা প্রশাসন। কর্তব্যে গাফিলতি এবং উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া বিতর্কিত মন্তব্য করার অভিযোগে অতিরিক্ত জেলা শাসক (আইন-শৃঙ্খলা) শেখ আনসার আহমেদকে দুটি শোকজ নোটিশ পাঠালেন জেলা শাসক রাজানভীর সিং কাপুর। আগামী সাত দিনের মধ্যে অভিযুক্ত আধিকারিককে এই নোটিশের সন্তোষজনক জবাব দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রশাসন সূত্রে খবর, গত ৩১ মার্চ কালিয়াচকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে ছিলেন শেখ আনসার আহমেদ। অভিযোগ উঠেছে, বিডিও অফিসে বিচারকদের ঘেরাও চলাকালীন তিনি জনতাকে শান্ত করার পরিবর্তে সেখানে উপস্থিত হয়ে এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। এমনকি জেলা শাসকের অনুমতি ছাড়াই তিনি বিক্ষোভকারীদের কিছু প্রতিশ্রুতি দেন, যা তার এক্তিয়ার বহির্ভূত বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।
শোকজ নোটিশে প্রশ্ন তোলা হয়েছে, নির্বাচন কমিশনের অধীনস্থ এবং সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশসাপেক্ষ এসআইআর শুনানির তারিখ পরিবর্তনের আশ্বাস একজন অতিরিক্ত জেলা শাসক কীভাবে দিতে পারেন। জেলা শাসক জানিয়েছেন, সদুদ্দেশ্য থাকলেও এই ধরণের আলগা মন্তব্য জনমানসে বিভ্রান্তি ও অযথা প্রত্যাশা তৈরি করে। এটি প্রশাসনিক পদের মর্যাদা এবং দায়িত্বের পরিপন্থী।
উল্লেখ্য, ওই দিন কালিয়াচকের বিডিও অফিসে সাতজন বিচারবিভাগীয় আধিকারিককে প্রায় ৯ ঘণ্টা জল ও খাবার ছাড়া আটকে রেখেছিল উত্তেজিত জনতা। বিচারকদের গাড়িতে ভাঙচুর ও ইট-পাটকেল ছোঁড়ার মতো গুরুতর অভিযোগও সামনে আসে। শেখ আনসার আহমেদ ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকলেও তিনি নীরব ছিলেন এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে যথাযথ ভূমিকা নেননি বলে জেলা প্রশাসন মনে করছে।
ইতিমধ্যেই এই শোকজ নোটিশের অনুলিপি রাজ্যের স্বরাষ্ট্র সচিব, মালদহের পুলিশ সুপার এবং জেলা জজকে পাঠানো হয়েছে। নিরাপত্তার গাফিলতি ও প্রশাসনিক শৃঙ্খলার প্রশ্নে মালদা জেলা প্রশাসনের এই কঠোর অবস্থান বর্তমানে নবান্ন পর্যন্ত পৌঁছেছে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে শেখ আনসার আহমেদের উত্তরের ওপরই নির্ভর করছে তার পরবর্তী বিভাগীয় পদক্ষেপ।