বাংলায় ৯১ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ, বিধানসভা নির্বাচনের আগে কমিশনের বড় পদক্ষেপ

নির্বাচন কমিশনের প্রকাশিত সাম্প্রতিক তথ্যে রাজ্যজুড়ে ব্যাপক শোরগোল পড়ে গিয়েছে। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়া চলাকালীন দুই দফায় রেকর্ড ৯০ লক্ষ ৮৩ হাজার ৩৪৫ জনের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। গত সোমবার রাতে দ্বিতীয় দফার সংশোধিত তালিকা প্রকাশের পর এই বিপুল সংখ্যক ভোটারের নাম বাদ পড়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গিয়েছে।
কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রথম দফার তালিকা প্রকাশের পর রাজ্যের মোট ভোটার সংখ্যা ৭ কোটি ৬৬ লক্ষ থেকে কমে ৬ কোটি ৭৭ লক্ষে দাঁড়িয়েছিল। সোমবার রাতে দ্বিতীয় দফার তালিকায় আরও ২৭ লক্ষের বেশি নাম বাদ যাওয়ায় ভোটার তালিকায় বড়সড় পরিবর্তন এসেছে। মূলত ভুয়া ভোটার ও দ্বৈত নাম বাদ দিতেই এই কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে নির্বাচন কমিশন।
জেলাভিত্তিক হিসেবে দেখা যাচ্ছে, মুর্শিদাবাদে সবথেকে বেশি ভোটারের নাম কাটা পড়েছে। এই জেলায় ৪ লক্ষ ৫৫ হাজার নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। মুর্শিদাবাদের পরেই রয়েছে উত্তর ২৪ পরগনা জেলা, যেখানে প্রায় ৩ লক্ষ ২৫ হাজার ভোটারের নাম বাদ পড়েছে। মালদা জেলাতেও নাম বাদ পড়ার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি বলে জানা গিয়েছে।
রাজ্য নির্বাচন কমিশনের এই পরিসংখ্যান সামনে আসতেই রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। বিপুল সংখ্যক ভোটারের নাম বাদ পড়ার ফলে নির্বাচনের ফলাফল এবং ভোটার উপস্থিতিতে এর কেমন প্রভাব পড়বে, তা নিয়ে চর্চা শুরু হয়েছে। মৃত ব্যক্তি বা স্থায়ীভাবে ঠিকানা পরিবর্তন করা ভোটারদের নাম চিহ্নিত করতেই এই প্রক্রিয়া চালানো হচ্ছে বলে কমিশনের দাবি।
নির্বাচনী আধিকারিকদের মতে, একটি স্বচ্ছ ও ত্রুটিমুক্ত ভোটার তালিকা উপহার দিতেই এই বিপুল সংখ্যক নাম যাচাই করে বাদ দেওয়া হয়েছে। এর ফলে ভোটার তালিকায় কেবল যোগ্য নাগরিকদের নামই অবশিষ্ট থাকবে। নতুন করে আরও কোনো নাম সংযোজন বা বিয়োজন হবে কি না, সেদিকেও নজর রাখছে সংশ্লিষ্ট বিভাগ।
রাজ্যের ভোটার তালিকায় এই বিশাল রদবদল আগামী নির্বাচনের সমীকরণ বদলে দিতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। সাধারণ নাগরিকদের দ্রুত নিজেদের নাম তালিকায় রয়েছে কি না তা যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। কমিশনের ওয়েবসাইট বা স্থানীয় নির্বাচনী দফতর থেকে এখন ভোটাররা তাদের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে নিশ্চিত হতে পারবেন।