২০২৬-এর বঙ্গভোটের আগে রণকৌশল বদল বিজেপির! হায়দরাবাদে ৬০ হাজার বাঙালির কাছে বিশেষ আর্জি কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর

আগামী ২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক তৎপরতা তুঙ্গে। এই আবহে সুদূর হায়দরাবাদে বসবাসকারী প্রায় ৬০ হাজার বাঙালির কাছে বিশেষ আবেদন জানালেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বি. সঞ্জয় কুমার। সোমবার সন্ধ্যায় তেলঙ্গানার রাজধানীতে বসবাসকারী বাঙালি পরিবারগুলির সঙ্গে এক বৈঠকে মিলিত হন তিনি। সেখানে প্রবাসী বাঙালিদের উদ্দেশ্যে মন্ত্রী আর্জি জানান, তারা যেন পশ্চিমবঙ্গে থাকা নিজেদের আত্মীয়-স্বজন ও বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগ করে পদ্ম শিবিরের পক্ষে জনমত গড়ে তোলেন।
এদিন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অভিযোগ করেন, তৃণমূল নেত্রী কেবল ‘ভোটব্যাঙ্কের রাজনীতির’ জন্য রাজ্যে অনুপ্রবেশকে মদত দিচ্ছেন। বি. সঞ্জয় কুমারের দাবি, কেন্দ্রীয় সরকার সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার চেষ্টা করলেও রাজ্য সরকারের অসহযোগিতার কারণে তা বারবার বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। অবৈধ অনুপ্রবেশকে জাতীয় নিরাপত্তার ক্ষেত্রে এক গভীর সংকট হিসেবেও তিনি চিহ্নিত করেছেন।
নিজের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে মন্ত্রী লিখেছেন, পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান পরিস্থিতির কারণেই অনেক পরিবার রাজ্য ছেড়ে তেলঙ্গানায় বসতি স্থাপন করতে বাধ্য হয়েছেন। তাঁর মতে, বর্তমানে বাংলার জন্য প্রয়োজন নিরাপত্তা, স্থিতিশীলতা এবং একটি শক্তিশালী শাসনব্যবস্থা। হায়দরাবাদে বসবাসকারী কয়েক হাজার বাঙালির সমর্থন আগামী নির্বাচনে বিশেষ গুরুত্ব বহন করবে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
এর পাশাপাশি প্রাক্তন ইউপিএ সরকার এবং বর্তমান কংগ্রেস ও বিআরএস-এর বিরুদ্ধেও তোপ দাগেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, ২০১৪ সালের আগে বিপুল সংখ্যক অনুপ্রবেশকারী হায়দরাবাদে প্রবেশ করেছিল। এমনকি বিরোধী দলগুলি রোহিঙ্গা ও অনুপ্রবেশকারীদের রেশন কার্ড এবং ভোটার আইডি কার্ড পাইয়ে দিয়ে সুবিধা করে দিয়েছে বলেও তিনি সরাসরি দাবি করেন।
ভোটের আগে প্রবাসীদের মাধ্যমে রাজ্যের মানুষের কাছে পৌঁছানোর বিজেপির এই কৌশল যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। মন্ত্রীর এই ভাইরাল মন্তব্যের পর রাজনৈতিক অন্দরে শুরু হয়েছে নতুন চর্চা। ২০২৬ সালের নির্বাচনের লড়াই যে সীমান্ত সমস্যার ইস্যুকে কেন্দ্র করে আরও জোরালো হবে, মন্ত্রীর এই আক্রমণাত্মক মেজাজ তারই ইঙ্গিত দিচ্ছে।