অতিরিক্ত জনসংখ্যার চাপে বিপর্যস্ত পৃথিবী, ৮৩০ কোটির ভার সইতে হিমশিম খাচ্ছে প্রকৃতি

এক সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক গবেষণা বিশ্বজুড়ে তীব্র উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। ‘এনভায়রনমেন্টাল রিসার্চ লেটার্স’-এ প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্তমান ৮৩০ কোটি মানুষের চাহিদা মেটাতে গিয়ে পৃথিবীর প্রাকৃতিক সম্পদ পুনরুদ্ধারের ক্ষমতা মারাত্মকভাবে হ্রাস পাচ্ছে। বিজ্ঞানীরা দাবি করেছেন, মানুষ বর্তমানে পৃথিবীর ধারণক্ষমতার চেয়ে ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ দ্রুত গতিতে সম্পদ ব্যবহার করছে, যা দীর্ঘমেয়াদে অস্তিত্বের সংকট তৈরি করতে পারে।
অস্ট্রেলিয়ার ফ্লিন্ডার্স ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক কোরি ব্র্যাডশর নেতৃত্বে পরিচালিত এই গবেষণায় জানানো হয়েছে, বর্তমানে বিশ্বজুড়ে যে জীবনশৈলী চলছে, তা বজায় রাখতে অন্তত ১.৭ থেকে ১.৮টি পৃথিবীর সমান সম্পদের প্রয়োজন। গবেষকদের মতে, পৃথিবীর ‘ক্যারিয়িং ক্যাপাসিটি’ বা কোনো প্রজাতিকে দীর্ঘকাল টিকিয়ে রাখার সর্বোচ্চ ক্ষমতা এখন মানুষের সীমাহীন চাহিদার কাছে হার মানছে।
বিগত দুই শতাব্দীর জনসংখ্যার তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ১৯৫০ সালের পর থেকে শিল্পায়ন ও ক্রমবর্ধমান ভোগের কারণে প্রকৃতির ভারসাম্য নষ্ট হয়েছে। বিশেষ করে জীবাশ্ম জ্বালানির অত্যধিক ব্যবহার ২০ শতকে জনসংখ্যা বৃদ্ধিতে সহায়ক হলেও তা পরিবেশগত ঋণ তৈরি করেছে। গবেষণার ইঙ্গিত, ২০৭০ সালের মধ্যে বিশ্ব জনসংখ্যা প্রায় ১১.৭ থেকে ১২.৪ কোটির শিখরে পৌঁছাতে পারে।
প্রতিবেদনে একটি চমকপ্রদ তথ্য উঠে এসেছে যে, স্থিতিশীল ও ভারসাম্যপূর্ণ জীবনের জন্য পৃথিবীর আদর্শ ধারণক্ষমতা মাত্র ২৫০ কোটি। অর্থাৎ বর্তমান জনসংখ্যা নিরাপদ সীমার চেয়ে তিন গুণ বেশি। এই অতিরিক্ত চাপের ফলে জলবায়ু পরিবর্তন, জীববৈচিত্র্য ধ্বংস এবং বন উজাড়ের মতো সমস্যাগুলো প্রকট হচ্ছে, যা পৃথিবীকে ‘জল দেউলিয়া’ হওয়ার দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
তবে গবেষকরা কেবল জনসংখ্যার আধিক্যকেই দায়ী করেননি, বরং উন্নত দেশগুলোর ভোগবাদী জীবনযাত্রাকেও বড় কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। সম্পদ ব্যবহারের এই আসাম বন্টন এবং লাগামহীন চাহিদাই মূলত বাস্তুসংস্থানকে ধ্বংসের মুখে ফেলেছে। শিক্ষা ও সচেতনতার মাধ্যমে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ এবং সম্পদের দায়িত্বশীল ব্যবহারই এখন এই সংকট থেকে উত্তরণের একমাত্র পথ।