পাইলট উদ্ধারের আড়ালে ইউরেনিয়াম চুরির চেষ্টা আমেরিকার! বিস্ফোরক দাবি করল ইরান

পাইলট উদ্ধারের আড়ালে ইউরেনিয়াম চুরির চেষ্টা আমেরিকার! বিস্ফোরক দাবি করল ইরান

নিখোঁজ পাইলট উদ্ধারের নামে ইরান থেকে ইউরেনিয়াম চুরি করার চেষ্টা করেছিল আমেরিকা— এমনটাই চাঞ্চল্যকর দাবি তুলেছে তেহরান। রবিবার মার্কিন অভিযান ভেস্তে দেওয়ার দাবি করার পর, ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই সুর বদল করে ইরান। দেশটির বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র ইসমাইলি বাকাই জানান, মার্কিন বাহিনীর মূল লক্ষ্য শুধুমাত্র পাইলট উদ্ধার ছিল না, বরং তাদের নজর ছিল ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের দিকে। তিনি এই পুরো অভিযানটিকে ‘ভুয়ো’ বলে অভিহিত করেছেন।

ইরানের দাবি অনুযায়ী, মার্কিন এফ-১৫ই স্ট্রাইক ইগল যুদ্ধবিমানটি গুলি করে নামানোর পর পাইলট বয়ার-আহমেদ প্রদেশের কোগিলুয়ে এলাকায় আত্মগোপন করেছিলেন। কিন্তু মার্কিন উদ্ধারকারী বাহিনী রহস্যজনকভাবে মধ্য ইরানে নামার চেষ্টা করে, যা পাইলটের অবস্থান থেকে অনেকটা দূরে। এই ভৌগোলিক অসঙ্গতি তুলে ধরে বাকাই প্রশ্ন তুলেছেন, কেন মার্কিন বাহিনী পাইলট যেখানে নেই সেই এলাকায় অভিযানের চেষ্টা করেছিল? ইরানের মতে, মধ্য ইরানে প্রবেশের মূল উদ্দেশ্য ছিল পরমাণু অস্ত্র তৈরিতে সক্ষম ৪০০-৪৫০ কেজি সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম হাতিয়ে নেওয়া।

উল্লেখ্য, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরেই ইরানের এই বিপুল পরিমাণ ইউরেনিয়াম মজুত নিয়ে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছেন। এর আগে তেহরানকে দেওয়া শর্তাবলীতেও এই ইউরেনিয়াম সংক্রান্ত বিষয় অন্তর্ভুক্ত ছিল। এমনকি ট্রাম্প সতর্ক করেছিলেন যে, ইরান শর্ত না মানলে ইউরেনিয়াম নিয়ন্ত্রণে নিতে বলপ্রয়োগ করা হতে পারে। ইরানের সংবাদমাধ্যমের দাবি, উপদেষ্টাদের মাধ্যমে তেহরানের ওপর ক্রমাগত চাপ সৃষ্টি করে আসছে ওয়াশিংটন।

পাইলট উদ্ধারের আড়ালে ইউরেনিয়াম হাতানোর এই গুরুতর অভিযোগ নিয়ে এখন পর্যন্ত হোয়াইট হাউস বা ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে এই অভিযোগ দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক ও সামরিক সংঘাতের সম্ভাবনাকে আরও উসকে দিয়েছে। ইরান কড়া ভাষায় জানিয়েছে, তাদের বাহিনী মার্কিন চুরির পরিকল্পনা সফলভাবে ভেস্তে দিয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *