ভবানীপুরে ‘মিনি ইন্ডিয়া’র আবহ, মনোনয়নে বহুত্ববাদের বার্তা দিয়ে মাস্টারস্ট্রোক মমতার

ভবানীপুরে ‘মিনি ইন্ডিয়া’র আবহ, মনোনয়নে বহুত্ববাদের বার্তা দিয়ে মাস্টারস্ট্রোক মমতার

ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনে মনোনয়ন পেশকে কেন্দ্র করে এক অনন্য রাজনৈতিক কৌশলের পথে হাঁটছেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বুধবার আলিপুরের সার্ভে বিল্ডিংয়ে তাঁর মনোনয়ন জমা দেওয়ার কথা। এই প্রক্রিয়ায় মুখ্যমন্ত্রী মূলত ভবানীপুরের ‘কসমোপলিটান’ বা বহুত্ববাদী চরিত্রকে জনসমক্ষে তুলে ধরতে চাইছেন। তাঁর মনোনয়নপত্রের প্রস্তাবকদের তালিকায় ভিন্ন ধর্ম, ভাষা ও সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের নাম রেখে ভোটারদের কাছে সম্প্রীতি ও সহাবস্থানের জোরালো বার্তা দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছে শাসকদল।

তৃণমূল সূত্রের খবর, মমতার প্রস্তাবকদের তালিকায় থাকতে পারেন কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিমের স্ত্রী রুবি হাকিম, ভবানীপুর এডুকেশন সোসাইটির মীরজ শাহ এবং স্থানীয় ব্লক সভাপতি বাবলু সিংহ। অর্থাৎ বাঙালি, অবাঙালি এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে এক বিশেষ প্রতীকী ছবি ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করা হচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিরোধী শিবির যেখানে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের উপস্থিতিতে শক্তি প্রদর্শন করছে, সেখানে মমতা বেছে নিয়েছেন জনসংযোগ ও অন্তর্ভুক্তির পথ। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে তিনি সরাসরি মেরুকরণের রাজনীতির বিরুদ্ধে ‘মিনি ইন্ডিয়া’র সংস্কৃতিকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করতে চাইছেন।

সাংস্কৃতিক ও ভাষাগত বৈচিত্র্যে ভরপুর ভবানীপুর কেন্দ্রে বিপুল সংখ্যক গুজরাতি, পাঞ্জাবি, মাড়োয়ারি ও শিখ সম্প্রদায়ের মানুষের বসবাস। পাশাপাশি এখানে মুসলিম ও জৈন ধর্মাবলম্বীদের উপস্থিতিও উল্লেখযোগ্য। এলাকাটির এই মিশ্র জনবিন্যাসকে গুরুত্ব দিয়েই মনোনয়নের দিন একটি বর্ণাঢ্য মিছিলের পরিকল্পনা করা হয়েছে। মিছিলে সুব্রত বক্সী, ফিরহাদ হাকিম ও দেবাশিস কুমারের মতো হেভিওয়েট নেতাদের পাশাপাশি প্রতিটি সম্প্রদায়ের সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মূলত ভবানীপুরের লড়াইয়ে এবার ‘মেরুকরণ বনাম বহুত্ববাদ’ একটি বড় ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়িয়েছে। নিজের নির্বাচনী কেন্দ্রকে ক্ষুদ্র ভারতবর্ষ হিসেবে তুলে ধরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বুঝিয়ে দিতে চাইছেন যে, তিনি সব ভেদাভেদের ঊর্ধ্বে। প্রস্তাবক হিসেবে মনোনীত হওয়া বাবলু সিংহ জানিয়েছেন, সব ধর্মের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে চলাই মুখ্যমন্ত্রীর মূল আদর্শ, যা এই মনোনয়নে প্রতিফলিত হবে। সব মিলিয়ে, ভোটের লড়াই শুরুর আগেই কৌশলগতভাবে এক কদম এগিয়ে থাকতে চাইছে তৃণমূল শিবির।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *