পণ্ডিত রবিশঙ্করের জন্মবার্ষিকীতে সশ্রদ্ধ প্রণাম জানালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

সেতারের জাদুকর পণ্ডিত রবিশঙ্করের ১০৬তম জন্মবার্ষিকীতে বিশেষ শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রবিবার সকালে সামাজিক মাধ্যম ‘এক্স’-এ একটি পোস্টের মাধ্যমে বিশ্ববরেণ্য এই শিল্পীর প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা প্রকাশ করেন তিনি। বাঙালির সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকার বহনকারী এই শিল্পীর অনন্য অবদানের কথা মুখ্যমন্ত্রী সস্মরণ করেছেন।
মুখ্যমন্ত্রী তাঁর বার্তায় লেখেন, বিশ্ববরেণ্য সেতারশিল্পী এবং বাংলার নবজাগরণের অন্যতম সাংস্কৃতিক কান্ডারি হিসেবে পণ্ডিত রবিশঙ্কর বাংলা ও বাঙালির চিরকালীন গর্ব। তাঁর সুরের মূর্ছনা ভারতীয় শাস্ত্রীয় সঙ্গীতকে বিশ্বের দরবারে এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে। আন্তর্জাতিক স্তরে ভারতের সাংস্কৃতিক পরিচিতি বৃদ্ধিতে তাঁর ভূমিকা অনস্বীকার্য বলে মুখ্যমন্ত্রী উল্লেখ করেন।
পণ্ডিত রবিশঙ্করের জন্ম ১৯২০ সালের ৭ এপ্রিল বারাণসীতে হলেও তাঁর শিকড় ও শৈল্পিক সত্তা বাংলার মাটির সঙ্গে নিবিড়ভাবে যুক্ত ছিল। সেতার বাদনে তাঁর অতুলনীয় শৈলী ও সৃজনশীলতা যুগের পর যুগ সঙ্গীতপ্রেমীদের মুগ্ধ করে রেখেছে। শুধু শাস্ত্রীয় সঙ্গীত নয়, বিশ্ব সঙ্গীতের বিভিন্ন ধারার সঙ্গে ভারতীয় সুরের মেলবন্ধন ঘটাতে তিনি অগ্রণী ভূমিকা নিয়েছিলেন।
বাংলার এই কৃতি সন্তানের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, তাঁর সৃষ্টি ও সাধনা আগামী প্রজন্মের কাছে প্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে। রবিশঙ্করের জন্মবার্ষিকীতে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তেও নানা অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তাঁকে স্মরণ করছেন অনুরাগী ও শিল্পীরা। বিশেষত কলকাতার সাংস্কৃতিক মহলে দিনটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে পালিত হচ্ছে।
বাঙালি ঐতিহ্য ও ধ্রুপদী সঙ্গীতের জয়গান গেয়ে মুখ্যমন্ত্রী রবিশঙ্করের ১০৬তম জন্মবার্ষিকীকে এক বিশেষ মর্যাদাদান করলেন। বিশ্বমঞ্চে ভারতীয় সঙ্গীতকে প্রতিষ্ঠিত করার ক্ষেত্রে এই সেতার সম্রাটের যে উত্তরাধিকার, তা অমলিন রাখতে রাজ্য সরকার সদা সচেষ্ট। আজকের দিনটি সঙ্গীত জগতের জন্য এক গর্বের দিন হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।