২০১৫ থেকে ২০২৫ মানব ইতিহাসের উষ্ণতম ১১ বছর, বিশ্বজুড়ে চরম সংকটের সতর্কতা

গত এক দশক বিশ্ব জলবায়ুর ইতিহাসে এক ভয়ংকর অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (WMO) জানিয়েছে, ২০১৫ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত এই টানা ১১ বছর পৃথিবীর বুকে সবচেয়ে উষ্ণ সময়কাল হিসেবে রেকর্ড করা হয়েছে। এই নজিরবিহীন তাপমাত্রা বৃদ্ধি এবং আবহাওয়ার আমূল পরিবর্তন বর্তমান বিশ্বের জন্য গভীর উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
রাষ্ট্রসংঘের আওতাধীন এই সংস্থাটির প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। গত ১১ বছরে পৃথিবী এমন সব শক্তিশালী ঝড়, টাইফুন এবং বিধ্বংসী প্রাকৃতিক দুর্যোগের সাক্ষী হয়েছে, যা আগে কখনো দেখা যায়নি। একদিকে যখন দাবদাহ চরমে উঠেছে, অন্যদিকে অতিবৃষ্টির ফলে সৃষ্ট বন্যা জনজীবনকে বিপর্যস্ত করে তুলেছে। এই চরম ভাবাপন্ন আবহাওয়া কার্যত পৃথিবীর স্বাভাবিক ভারসাম্যকে নষ্ট করে দিচ্ছে।
সামুদ্রিক পরিবেশেও দেখা দিয়েছে চরম বিপর্যয়। ১৯৬০ সাল থেকে সমুদ্রের জলের উষ্ণতা পরিমাপ শুরু হলেও ২০২৫ সালে তা এক ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। ডব্লিউএমও-র তথ্য অনুযায়ী, সমুদ্রের উপরিভাগ থেকে ২ হাজার মিটার গভীর পর্যন্ত জলস্তর অস্বাভাবিকভাবে উত্তপ্ত হয়ে পড়েছে। এর আগে সমুদ্রের জলস্তরে এত গভীর ও ব্যাপক উষ্ণতা বৃদ্ধির ঘটনা কখনও নথিভুক্ত হয়নি।
রিপোর্টে আরও জানানো হয়েছে যে, বর্তমানে বায়ুমণ্ডলে গ্রিন হাউস গ্যাসের ঘনত্ব গত ৮ লক্ষ বছরের রেকর্ড ছাপিয়ে গিয়েছে। গ্রিন হাউস গ্যাসের এই বিপুল সঞ্চয় জলবায়ুর ভারসাম্যহীনতাকে ত্বরান্বিত করছে। বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা প্রথমবারের মতো স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছে যে, পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে।
আবহাওয়ার এই চরম পরিস্থিতি কেবল পরিবেশগত সমস্যায় সীমাবদ্ধ নেই, এটি বিশ্ব অর্থনীতির ওপরও মারাত্মক প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে। কৃষি থেকে শুরু করে শিল্প—সব ক্ষেত্রেই এই খামখেয়ালি আবহাওয়া নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে এই বিপর্যয় সামলানো আসাম্ভব হয়ে পড়বে।
জলবায়ু পরিবর্তনের এই ভয়ংকর খতিয়ান বিশ্বের নীতি-নির্ধারকদের সামনে এক কঠিন চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছে। অবিলম্বে কার্বন নিঃসরণ হ্রাস এবং পরিবেশ রক্ষায় বৈশ্বিক ঐকমত্যের প্রয়োজনীয়তা এখন সময়ের দাবি। পৃথিবীর ভবিষ্যৎ রক্ষায় এই ১১ বছরের উষ্ণায়নের রেকর্ডকে একটি সতর্কবার্তা হিসেবে গ্রহণ করার আহ্বান জানিয়েছেন পরিবেশবিদরা।