‘ঠাকুমার চিকিৎসাও করোনি আমরাই করিয়েছি’, শান্তনু ঠাকুরকে বেনজির আক্রমণ মমতার

‘ঠাকুমার চিকিৎসাও করোনি আমরাই করিয়েছি’, শান্তনু ঠাকুরকে বেনজির আক্রমণ মমতার

নির্বাচনী উত্তাপের মধ্যেই এবার ঠাকুরবাড়ি প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শান্তনু ঠাকুরকে নাম না করে তীব্র আক্রমণ শানালেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। হাবড়ার জনসভা থেকে তিনি অভিযোগ করেন, মতুয়া সম্প্রদায়ের আরাধ্য ‘বড়মা’ যখন অসুস্থ ছিলেন, তখন তাঁর চিকিৎসার দায়িত্ব নেয়নি পরিবার। বরং রাজ্য সরকার এবং জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকই উদ্যোগী হয়ে তাঁর চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছিলেন। মমতার দাবি, নির্বাচনের আগে ঠাকুরবাড়িকে নিয়ে রাজনীতি করা হলেও সংকটের সময়ে কাউকেই পাশে পাওয়া যায়নি।

এদিনের সভা থেকে বিজেপি এবং শান্তনু ঠাকুরকে নিশানা করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বড়মার অসুস্থতার খবর জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকই তাঁকে পৌঁছে দিতেন এবং হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করতেন। তৃণমূল নেত্রীর অভিযোগ, এখন রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে ঠাকুরবাড়ির আবেগকে ব্যবহার করা হচ্ছে, যা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। পাশাপাশি তিনি ভোটারদের মনে করিয়ে দেন যে, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে দেওয়া সমস্ত প্রতিশ্রুতি তাঁর সরকার অক্ষরে অক্ষরে পালন করেছে।

রাজ্যের ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া নিয়ে নির্বাচন কমিশন এবং কেন্দ্রকেও কাঠগড়ায় তোলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, মাদার টেরেজার মিশনারিজ অফ চ্যারিটি, ভারত সেবাশ্রম এবং বেলুড় মঠের সন্ন্যাসীদের নাম পর্যন্ত তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এমনকি অনেক বিচারপতির নামও বাদ পড়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। তাঁর মতে, পরিকল্পিতভাবে মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।

সিপিএম এবং বিজেপি-র গোপন আঁতাতের অভিযোগ তুলে হাবড়াবাসীকে সতর্ক করেন তৃণমূল নেত্রী। তিনি সাফ জানান, সিপিএমকে ভোট দেওয়ার অর্থ হলো বিজেপিকে সুবিধা করে দেওয়া। রাজ্যে এনআরসি বা ডিটেনশন ক্যাম্প কোনোভাবেই হতে দেবেন না বলে ফের আশ্বস্ত করেন তিনি। সাধারণ মানুষের কাছে আবেদন জানিয়ে তিনি বলেন, উন্নয়নের ধারা বজায় রাখতে এবং ‘মাছে ভাতে’ বাঙালি হিসেবে বেঁচে থাকতে তৃণমূলকেই ভোট দেওয়া প্রয়োজন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *