নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে টলিউডে কর্মবিরতি জারি, রাহুল বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যুতে চরম হুঁশিয়ারি স্বরূপের

নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে টলিউডে কর্মবিরতি জারি, রাহুল বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যুতে চরম হুঁশিয়ারি স্বরূপের

শুটিং করতে গিয়ে অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের মর্মান্তিক মৃত্যু টলিউডের অন্দরে নিরাপত্তার অভাবকে চরমভাবে সামনে নিয়ে এসেছে। গত ২৯ মার্চ তালসারিতে ‘ভোলে বাবা পার করেগা’ ধারাবাহিকের শুটিং চলাকালীন সমুদ্রে তলিয়ে যান তিনি। এই ঘটনার প্রতিবাদে এবং স্টুডিওপাড়ায় শিল্পী ও কলাকুশলীদের প্রাণের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ৭ এপ্রিল এক জরুরি বৈঠকের ডাক দিয়েছে ফেডারেশন ও আর্টিস্ট ফোরাম। ফেডারেশন সভাপতি স্বরূপ বিশ্বাস স্পষ্ট জানিয়েছেন, কাজের জায়গায় উপযুক্ত নিরাপত্তা বিধি বা এসওপি (SOP) তৈরি না হওয়া পর্যন্ত এই লড়াই চলবে।

এদিন বৈঠক শুরুর আগে স্বরূপ বিশ্বাস দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ উগড়ে দিয়ে বলেন, “আমরা চাই না কাজ বন্ধ হোক, কিন্তু নিরাপত্তা ছাড়া কাজ করা আসাম্ভব।” তিনি জানান, ইতিপূর্বে শর্টসার্কিট বা পড়ে গিয়ে দুর্ঘটনার কবলে পড়েছেন অনেক টেকনিশিয়ান, কিন্তু বারবার সচেতনতার অভাব প্রকট হয়েছে। এবার আর কোনো দায় এড়ানোর সুযোগ নেই; প্রযোজক ও চ্যানেল কর্তৃপক্ষকে যৌথভাবে দায়িত্ব নিতে হবে। ইম্পা (IMPAA) সভাপতি পিয়া সেনগুপ্ত ইতিমধ্যেই এই উদ্যোগকে সমর্থন জানিয়ে চিঠি দিয়েছেন।

ফেডারেশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আউটডোর শুটিং হোক বা স্টুডিও—প্রতিটি ক্ষেত্রে জীবনের ঝুঁকি কমাতে একটি লিখিত সুরক্ষা নীতিমালা বা সেফটি প্রোটোকল তৈরি করা এখন অস্তিত্বের প্রশ্ন। ইতিপূর্বে একটি প্রাথমিক কাঠামো তৈরি করা হয়েছে, যা নিয়ে স্টুডিওতে সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা হবে। স্বরূপ বিশ্বাসের মতে, একদিন কাজ বন্ধ থাকা মানে অনেক মানুষের রুজিরুটি থমকে যাওয়া, কিন্তু প্রাণের বিনিময়ে কাজ চালিয়ে যাওয়া আর সম্ভব নয়।

বর্তমানে টলিউডের টেকনিশিয়ান স্টুডিওতে এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠককে কেন্দ্র করে উত্তেজনা তুঙ্গে। উল্লেখ্য, ওই একই দুর্ঘটনায় অভিনেত্রী শ্বেতা মিশ্র অল্পের জন্য রক্ষা পেলেও রাহুলকে বাঁচানো যায়নি। ফেডারেশন সাফ জানিয়ে দিয়েছে, যদি এই আলোচনার টেবিলে নিরাপত্তার বিষয়ে কোনো সদর্থক সমাধান সূত্র না মেলে, তবে অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতি জারি থাকবে। এখন দেখার, চ্যানেল ও প্রযোজক সংস্থাগুলি শিল্পীদের এই জীবনমরণ প্রশ্নের উত্তরে কতটা সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *