সোশ্যাল মিডিয়ায় খুদেকে দিয়ে রিল বানাচ্ছেন? অজান্তেই সন্তানের ভবিষ্যৎ ঝুঁকিতে ফেলছেন না তো!

সোশ্যাল মিডিয়ায় খুদেকে দিয়ে রিল বানাচ্ছেন? অজান্তেই সন্তানের ভবিষ্যৎ ঝুঁকিতে ফেলছেন না তো!

বর্তমানে জনপ্রিয়তার হাতছানি ও উপার্জনের আশায় অনেক অভিভাবকই শিশুদের দিয়ে ভ্লগ বা রিল তৈরি করছেন। রাতারাতি ‘ডিজিটাল স্টার’ হওয়ার এই প্রবণতা শিশুর মানসিক বিকাশ ও স্বাভাবিক শৈশবে গভীর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। ব্যক্তিগত মুহূর্তগুলো জনসমক্ষে আসায় একদিকে যেমন সাইবার বুলিংয়ের ঝুঁকি বাড়ছে, অন্যদিকে লাইক-কমেন্টের ওপর নির্ভরতা শিশুদের মধ্যে তীব্র মানসিক চাপ ও উৎকণ্ঠা তৈরি করছে।

চিকিৎসকদের মতে, ক্যামেরার সামনে সর্বক্ষণ থাকার চাপ শিশুদের সৃজনশীলতা ও স্বাভাবিক মেলামেশার ক্ষমতা কমিয়ে দেয়। অনেক সময় মা-বাবারা নিজেদের অধরা সাফল্য বা বাড়তি চাহিদার কারণে অজান্তেই শিশুকে বাণিজ্যিক পণ্য হিসেবে ব্যবহার করছেন। এতে শিশুর গোপনীয়তার অধিকার খর্ব হওয়ার পাশাপাশি ডিজিটাল আসক্তি তৈরি হচ্ছে, যা তাদের দীর্ঘমেয়াদী একাকিত্বের দিকে ঠেলে দিতে পারে।

নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও এই প্রবণতা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। ভিডিওর মাধ্যমে শিশুর স্কুল বা বাসস্থানের মতো ব্যক্তিগত তথ্য অপরাধীদের হাতে পৌঁছে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই শিশুদের সমাজমাধ্যমে তুলে ধরার ক্ষেত্রে অভিভাবকদের আরও সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। শৈশবের সারল্য বজায় রাখতে এবং তাদের মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষিত করতে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষা করা এখন সময়ের দাবি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *