বকেয়া ডিএ মেটাতে তৎপর নবান্ন! সরকারি কর্মীদের তালিকা তলব করল অর্থ দফতর

রাজ্য সরকারি কর্মীদের দীর্ঘ প্রতীক্ষিত বকেয়া মহার্ঘ ভাতা বা ডিএ মেটানোর প্রক্রিয়া আরও একধাপ এগিয়ে নিয়ে গেল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘোষণা অনুযায়ী, সরকারি কর্মচারী, পেনশনভোগী, শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং অনুদানপ্রাপ্ত সংস্থার কর্মীদের ডিএ প্রদানের বিষয়ে নবান্ন সক্রিয় হয়েছে। সম্প্রতি রাজ্যের অর্থ দফতর শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মীদের ডিএ দেওয়ার পদ্ধতি নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে মিলিত হয়, যেখানে সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত এবং স্বশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের বকেয়া মেটানোর নীল নকশা তৈরি করা হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছিলেন যে, রোপা-২০০৯ অনুযায়ী বকেয়া ডিএ ২০২৬ সালের মার্চ মাস থেকে দেওয়া শুরু হবে। ইতিপূর্বে সুপ্রিম কোর্টের সময়সীমা মেনে ২০১৬ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত চার বছরের বকেয়া ডিএ-র টাকা অনেক ক্ষেত্রে প্রদান করা হয়েছে। এবার বাকি থাকা কর্মীদের বকেয়া মেটাতে উচ্চ শিক্ষা দফতর সোমবার রাজ্যের সমস্ত সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কাছে কর্মরত এবং অবসরপ্রাপ্ত কর্মীদের বিস্তারিত তথ্য তলব করেছে। রেজিস্ট্রারদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ ডাটাবেস তৈরি করার জন্য।
নির্দেশিকায় স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে, ২০১৬ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ের জন্য প্রত্যেক কর্মচারী বা পেনশনভোগীর বেতন, ভাতা এবং প্রতি মাসে কত টাকা ডিএ বা ডিআর (DR) প্রদান করা হয়েছে, তার সঠিক বিবরণ চূড়ান্ত করতে হবে। এই তথ্যগুলি সংশ্লিষ্ট ডিডিও (DDO) এবং রেজিস্ট্রারদের মাধ্যমে ‘সার্টিফাই’ বা যাচাই করা হবে। প্রতিটি দফতরে কতজন কর্মী এই মহার্ঘ ভাতা পাওয়ার যোগ্য, সেই সংখ্যা দ্রুত জানানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নবান্নের এই তৎপরতায় স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন কয়েক লক্ষ সরকারি কর্মী ও পেনশনভোগী। বিশেষ করে শিক্ষক, শিক্ষাকর্মী, পঞ্চায়েত, পুরসভা এবং সরকার অনুমোদিত স্বশাসিত সংস্থাগুলির ক্ষেত্রে এই বকেয়া মেটানোর প্রক্রিয়া গতি পাওয়ায় খুশির হাওয়া কর্মী মহলে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ডাটাবেস তৈরির কাজ শেষ হলে মেটানোর প্রক্রিয়া আরও মসৃণ হবে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।