ভোটের মুখে কমিশনের কড়া নির্দেশ, থমকে গেল সাংসদ ও বিধায়ক তহবিলের উন্নয়নমূলক কাজ

ভোটের মুখে কমিশনের কড়া নির্দেশ, থমকে গেল সাংসদ ও বিধায়ক তহবিলের উন্নয়নমূলক কাজ

লোকসভা ও বিধানসভা নির্বাচনের আদর্শ আচরণবিধি কার্যকর হতেই রাজ্যে উন্নয়নমূলক কাজের গতিতে বড়সড় ধাক্কা লাগল। ভারতের নির্বাচন কমিশনের জারি করা নতুন একগুচ্ছ নির্দেশিকার ফলে থমকে যেতে চলেছে বহু জনহিতকর প্রকল্প। বিশেষ করে সাংসদ ও বিধায়কদের এলাকা উন্নয়ন তহবিলের (MPLAD ও BEUP) অর্থে নতুন কোনো কাজ শুরু করার ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে কমিশন। গত মাসে সমস্ত রাজ্যের মুখ্যসচিবদের চিঠি দিয়ে এই সংক্রান্ত বিস্তারিত গাইডলাইন পাঠিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

কমিশনের নির্দেশিকায় স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে, জনপ্রতিনিধিদের তহবিল থেকে কোনো প্রকল্পের জন্য বর্তমানে নতুন করে অর্থ বরাদ্দ করা যাবে না। এমনকি কোনো প্রকল্পের ‘ওয়ার্ক অর্ডার’ বা কাজের বরাত দেওয়া হয়ে থাকলেও, যদি বাস্তবে সেই কাজ এখনও শুরু না হয়, তবে তা আর শুরু করা সম্ভব হবে না। শুধুমাত্র যে কাজগুলো আগে থেকেই চালু রয়েছে বা যে প্রকল্পের নির্মাণ সামগ্রী যথাস্থানে পৌঁছে গিয়েছে, কেবল সেই কাজগুলোই চালিয়ে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তবে কোনো কাজ ইতিমধ্যে শেষ হয়ে থাকলে তার বকেয়া টাকা মেটানোর ক্ষেত্রে ছাড় দিয়েছে কমিশন।

নির্বাচন কমিশনের এই অতি-সক্রিয়তায় বিভিন্ন মহলে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে বর্ষার আগে রাস্তাঘাট সংস্কার বা বন্যার আশঙ্কায় বাঁধ মেরামতির মতো জরুরি কাজগুলো আটকে যাওয়ায় সিঁদুরে মেঘ দেখছেন সাধারণ মানুষ। রাজ্য সরকারি কর্মী সংগঠনের পক্ষ থেকেও এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে জানানো হয়েছে যে, গুরুত্বপূর্ণ জনস্বার্থবাহী কাজগুলোর ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ শিথিল করা উচিত ছিল। কাজ থমকে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বাড়বে বলেই আশঙ্কা করা হচ্ছে।

কমিশন জানিয়েছে, নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ মেটার পরই আবার নতুন প্রকল্পের কাজ শুরু করা যাবে। তবে বর্ষার আগে গ্রামীণ ও শহর এলাকায় পরিকাঠামো উন্নয়নের যে কাজগুলো হওয়ার কথা ছিল, তা অনিশ্চিত হয়ে পড়ায় উদ্বেগে রয়েছেন সংশ্লিষ্ট এলাকার বাসিন্দারা। বর্তমানে শুধুমাত্র চালু থাকা প্রকল্পগুলোর কাজ চালিয়ে যাওয়ার মাধ্যমেই উন্নয়নের চাকা সচল রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *