ইরান ও আমেরিকা সংঘাতে চীনের রহস্যময় নীরবতা! বেইজিংয়ের ৫স্টার কৌশলের নেপথ্যে কী

ইরান ও আমেরিকা সংঘাতে চীনের রহস্যময় নীরবতা! বেইজিংয়ের ৫স্টার কৌশলের নেপথ্যে কী

মধ্য এশিয়ায় ইরান ও আমেরিকার মধ্যে বাড়তে থাকা চরম উত্তেজনার মাঝে এক অভাবনীয় কৌশল গ্রহণ করেছে চীন। আন্তর্জাতিক মহলে বেইজিংয়ের এই অবস্থানকে অনেকেই ‘Eat 5-star, do nothing’ বা ‘আরাম করো এবং নীরব থাকো’ নীতি হিসেবে অভিহিত করছেন। যেখানে বিশ্বের অন্যান্য শক্তিধর দেশগুলি সরাসরি বা পরোক্ষভাবে সংঘাতে জড়িয়ে পড়ছে, সেখানে বেইজিং যেন অনেকটা পরিকল্পিতভাবেই ‘দেখো এবং অপেক্ষা করো’ নীতিতে অনড়। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই কৌশলগত নীরবতা আসলে চীনের দীর্ঘমেয়াদী রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষার একটি সূক্ষ্ম চাল।

বিশ্লেষকদের ধারণা, আমেরিকা যদি মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাতে দীর্ঘ সময় ব্যস্ত থাকে, তবে এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে চীনের একাধিপত্য বিস্তারের পথ আরও প্রশস্ত হবে। চীন নিজেকে একটি ‘স্থিতিশীল শক্তি’ হিসেবে বিশ্বদরবারে তুলে ধরতে চায়। এর আগে ইরান ও সৌদি আরবের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনঃস্থাপনে মধ্যস্থতা করে বেইজিং সেই আস্থার প্রমাণ দিয়েছে। তাই বর্তমান পরিস্থিতিতে কোনো এক পক্ষকে সমর্থন করে চীন তার জ্বালানি সরবরাহ এবং বাণিজ্যিক ভারসাম্য নষ্ট করতে নারাজ।

তবে এই ‘স্ট্র্যাটেজিক পেশেন্স’ বা কৌশলগত ধৈর্য দীর্ঘমেয়াদে কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। মধ্য এশিয়ার সংঘাত যদি বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের বিপর্যয় ডেকে আনে, তবে চীন শেষ পর্যন্ত নিরপেক্ষ থাকতে পারবে কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। আপাতত বেইজিং সরাসরি যুদ্ধের ঝুঁকি না নিয়ে পরিস্থিতির ওপর গভীর নজর রাখছে এবং নিজের স্বার্থ সর্বাধিক করার চেষ্টা চালাচ্ছে। বিশ্ব রাজনীতির এই জটিল প্রেক্ষাপটে চীনের এই ‘নিষ্ক্রিয়তা’ আসলে এক অত্যন্ত সক্রিয় ও হিসেবি রাজনৈতিক কৌশল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *