কালবৈশাখীর ঝোড়ো তাণ্ডবে তোলপাড় দক্ষিণবঙ্গ, ফরাক্কায় মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় মৃত ২

তপ্ত এপ্রিলের হাঁসফাঁস গরমে অবশেষে স্বস্তির বৃষ্টি নামলেও কালবৈশাখীর দাপটে উত্তাল দক্ষিণবঙ্গ। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের সবকটি জেলায় ঝড়-বৃষ্টির এই দাপট জারি থাকবে বলে জানিয়েছে আলিপুর আবহাওয়া দফতর। আজ সকাল থেকেই আকাশ মেঘলা এবং দিনভর দফায় দফায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। হাওড়া, হুগলি, দুই চব্বিশ পরগনা, মেদিনীপুর, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া এবং মুর্শিদাবাদ-সহ একাধিক জেলায় ঘণ্টায় ৭০ থেকে ৮০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। দীর্ঘ দাবদাহের পর এই বৃষ্টি স্বস্তি দিলেও ঝড়ের প্রবল গতিবেগ নিয়ে সাধারণ মানুষকে সতর্ক করেছে প্রশাসন।
এরই মধ্যে মুর্শিদাবাদের ফরাক্কায় ১২ নম্বর জাতীয় সড়কে ঘটে গেল এক মর্মান্তিক পথ দুর্ঘটনা। মঙ্গলবার গভীর রাতে বল্লালপুর সংলগ্ন এলাকায় একটি যাত্রীবাহী বাস ও লরির মুখোমুখি সংঘর্ষে লরির চালক ও খালাসির মৃত্যু হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে খবর, মালদহের দিক থেকে আসা বাসের সামনে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি লরি ভুল লেনে (রং রুট) ঢুকে পড়লে এই ভয়াবহ সংঘর্ষ ঘটে। ধাক্কায় লরির সামনের অংশ কার্যত দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই দুজনের প্রাণহানি ঘটে। এই ঘটনায় বাসের বেশ কয়েকজন যাত্রীও গুরুতর জখম হয়েছেন।
দুর্ঘটনার বিকট শব্দ শুনে স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত উদ্ধারকাজে হাত লাগান। খবর পেয়ে ফরাক্কা থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের বল্লালপুর হাসপাতাল ও জঙ্গিপুর মহকুমা হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করে। মৃতদেহ দুটি ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। লরিটি কেন ভুল লেনে ঢুকে পড়ল, চালক মদ্যপ ছিলেন কি না বা যান্ত্রিক কোনো ত্রুটি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। আপাতত দুর্ঘটনাগ্রস্ত গাড়ি দুটিকে সরিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে।
আজ কলকাতার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩২ ডিগ্রি এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসের আশেপাশে থাকতে পারে। ঝড়-বৃষ্টির এই পরিস্থিতিতে অপ্রয়োজনীয় যাতায়াত এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। আবহাওয়া দফতরের মতে, দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলোতে কালবৈশাখীর এই দাপট আরও কয়েকদিন বজায় থাকতে পারে।