আসামে ভোটগ্রহণের ঠিক আগে গোমাংস বিতর্কে হিমন্ত বিশ্ব শর্মার বড় বার্তা

অসমে ভোটগ্রহণের ঠিক আগে গোমাংস বিতর্কে হিমন্ত বিশ্ব শর্মার বড় বার্তা

আসামে বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক আগের দিন রাজনৈতিক পারদ তুঙ্গে। ১২৬টি আসনের ভাগ্য নির্ধারণের ঠিক আগমুহূর্তে গোমাংস বিতর্ক নিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করলেন বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। বুধবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি জানান, তিনি রাজ্যে গোমাংস নিষিদ্ধ করছেন না, তবে জনসমক্ষে এর ব্যবহারের ওপর কঠোর সীমাবদ্ধতা বজায় রাখতে চান।

ব্যক্তিগত পরিসরে সীমিত রাখার আহ্বান

হিমন্ত বিশ্ব শর্মা সাফ জানিয়েছেন যে, আসামে বসবাসকারী মুসলিম সম্প্রদায়ের খাদ্যাভ্যাসে তিনি হস্তক্ষেপ করছেন না। তবে তাঁর স্পষ্ট বার্তা, এই অভ্যাস ব্যক্তিগত পরিসরে বা বাড়ির ভেতরেই সীমাবদ্ধ থাকা উচিত। তিনি বলেন, ‘আমি গোমাংস খাওয়া বন্ধ করছি না, তবে তা নিজের বাড়িতে খান। জনসমক্ষে বা প্রকাশ্য স্থানে খাবেন না।’

আইনের কড়াকড়ি ও মন্দিরের বিধি

আসাম গবাদি পশু সংরক্ষণ আইন, ২০২১-এর প্রসঙ্গ টেনে মুখ্যমন্ত্রী স্মরণ করিয়ে দেন যে, ব্যক্তিগতভাবে গোমাংস গ্রহণে আইনত বাধা নেই। তবে ধর্মীয় সংবেদনশীলতা রক্ষায় কিছু নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলতে হবে।

  • কোনো মন্দিরের ৫ কিলোমিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে গোমাংস বিক্রি বা খাওয়া নিষিদ্ধ।
  • আসামের ঐতিহ্যবাহী বৈষ্ণব মঠ বা ‘সত্র’ সংলগ্ন এলাকাতেও একই নিয়ম প্রযোজ্য।
  • রেস্তোরাঁসহ সব ধরণের পাবলিক প্লেসেও এর ব্যবহার নিষিদ্ধ রাখা হয়েছে।

রাজনৈতিক বিরোধ ও আইনি ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি

নির্বাচনী আবহে এই ইস্যুকে কেন্দ্র করে শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। সম্প্রতি আসাম জাতীয় পরিষদ (AJP) প্রার্থী কুঙ্কি চৌধুরির পরিবারের বিরুদ্ধে গোমাংস খাওয়ার ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়ানোর অভিযোগ উঠেছে। হিমন্ত বিশ্ব শর্মা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, নির্বাচনের পর গবাদি পশু সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী ওই প্রার্থীর পরিবারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যদিও কুঙ্কি চৌধুরি এই অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি পাল্টা দাবি করেছেন যে, ডিপফেক প্রযুক্তির মাধ্যমে তাঁদের হেনস্থা করা হচ্ছে।

বিশ্লেষণের কেন্দ্রে নির্বাচনী সমীকরণ

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের ঠিক আগে এই ইস্যু তুলে আনা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। একদিকে হিমন্ত বিশ্ব শর্মা তাঁর হিন্দু ভোটব্যাঙ্ক সুসংহত করতে চাইছেন, অন্যদিকে মুসলিম সম্প্রদায়কে সরাসরি আক্রমণ না করে বরং ‘সীমাবদ্ধতা’র বার্তা দিয়ে একটি কৌশলগত ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা করছেন। আগামীকাল বৃহস্পতিবার ভোটগ্রহণ এবং ফলাফল জানা যাবে ৪ মে।

একঝলকে

  • মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য: গোমাংস খাওয়া নিষিদ্ধ নয়, তবে তা বাড়ির ভেতরে খেতে হবে।
  • নিষিদ্ধ এলাকা: মন্দির ও সত্রের ৫ কিমি ব্যাসার্ধের মধ্যে খাওয়া বা বিক্রি করা যাবে না।
  • আইনি প্রেক্ষাপট: গবাদি পশু সংরক্ষণ আইন, ২০২১ অনুযায়ী জনসমক্ষে গোমাংস খাওয়া আইনত দণ্ডনীয়।
  • ভোটের নির্ঘণ্ট: বৃহস্পতিবার আসামে ভোটগ্রহণ, ফল প্রকাশ ৪ মে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *