পশ্চিম এশিয়ায় স্থায়ী শান্তি ফেরার পথে, আমেরিকা ও ইরানের যুদ্ধবিরতিকে স্বাগত জানাল ভারত

পশ্চিম এশিয়ায় দীর্ঘদিনের সংঘাতের পর আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে ঘোষিত যুদ্ধবিরতির সিদ্ধান্তকে আন্তরিকভাবে স্বাগত জানিয়েছে ভারত। বুধবার নয়াদিল্লির বিদেশ মন্ত্রকের পক্ষ থেকে জারি করা একটি বিবৃতিতে এই ইতিবাচক পদক্ষেপের প্রশংসা করা হয়েছে। ভারত আশা প্রকাশ করেছে যে, এই যুদ্ধবিরতি কেবল সাময়িক পদক্ষেপ নয়, বরং পশ্চিম এশিয়ায় স্থায়ী শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে সহায়ক হবে। সংঘাত শুরুর প্রথম থেকেই ভারত বারংবার কূটনীতি এবং আলোচনার মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ সমাধানের ওপর জোর দিয়ে আসছিল, যা এই যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে সফল হবে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
ভারতের বিদেশ মন্ত্রক তাদের বিবৃতিতে উল্লেখ করেছে যে, চলমান যুদ্ধের ফলে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে এবং বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহ ও বাণিজ্যিক লেনদেন ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নয়াদিল্লি স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, সংঘাত অবসানের জন্য কূটনীতিই একমাত্র পথ। বুধবার ভোরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে সামরিক অভিযান বন্ধের ঘোষণা দেওয়ার পর ভারত সেই অবস্থানকেই পুনরায় সমর্থন জানিয়েছে। উল্লেখ্য, এই চুক্তিতে আমেরিকা ও ইরান—উভয় পক্ষই আপাতত একে অপরের বিরুদ্ধে অস্ত্র সংবরণ করতে রাজি হয়েছে।
এই যুদ্ধবিরতির পাশাপাশি হরমুজ প্রণালী দিয়ে অবাধ ও নিরাপদ নৌচলাচল বজায় রাখার বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে ভারতের কাছে। নয়াদিল্লি আশা প্রকাশ করেছে যে, বিশ্ববাণিজ্যের স্বার্থে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথটি দ্রুত খুলে দেওয়া হবে। ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী, ইরান অবিলম্বে এবং নিরাপদে হরমুজ প্রণালী খুলে দিতে সম্মত হয়েছে। ভারতের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিশ্বব্যাপী বাণিজ্যের প্রবাহ স্বাভাবিক রাখতে এই প্রণালীতে যাতায়াতের স্বাধীনতা অত্যন্ত জরুরি।
অন্যদিকে, ইরানের বিদেশমন্ত্রী সইদ আব্বাস আরাঘচি হরমুজ প্রণালী খোলার বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব দেখালেও কিছু শর্তের কথা উল্লেখ করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর সঙ্গে যথাযথ সমন্বয় এবং প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতাগুলো বিবেচনা করে তবেই এই পথে নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। ভারত মনে করে, এই সমঝোতা কার্যকর হলে বিশ্ব অর্থনীতিতে স্বস্তি ফিরবে এবং মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী শান্তির পরিবেশ তৈরি হবে।