ভোটার তালিকায় নাম ফেরাতে ট্রাইব্যুনালে আবেদনের পাহাড়, জলপাইগুড়িতে স্ট্যাম্প পেপারের তীব্র সংকটে চরম ভোগান্তি

ভোটার তালিকায় নাম ফেরাতে ট্রাইব্যুনালে আবেদনের পাহাড়, জলপাইগুড়িতে স্ট্যাম্প পেপারের তীব্র সংকটে চরম ভোগান্তি

জলপাইগুড়ি জেলা আদালতে ভোটার তালিকায় নাম ফেরানোর আবেদন জানাতে গিয়ে নজিরবিহীন সংকটের মুখে পড়েছেন কয়েক হাজার মানুষ। ‘বিচারাধীন’ তালিকা থেকে নাম বাদ পড়া বা ‘ডিলিট’ হওয়া ভোটাররা আপিল ট্রাইব্যুনালে আবেদনের জন্য এফিডেভিট করতে এসে দেখছেন বাজারে প্রয়োজনীয় স্ট্যাম্প পেপার নেই। সকাল থেকে লাইনে দাঁড়িয়েও স্ট্যাম্প না পেয়ে হতাশ হয়ে ফিরতে হচ্ছে দূর-দূরান্ত থেকে আসা সাধারণ মানুষকে, যার ফলে ভোটার হিসেবে পুনরায় স্বীকৃতি পাওয়ার আইনি প্রক্রিয়া ব্যাহত হচ্ছে।

আদালত সূত্রে খবর, জলপাইগুড়ি জেলায় ১ লক্ষ ৮ হাজার ১৯২ জন ভোটারের নাম বিচারাধীন তালিকায় ছিল। এর মধ্যে ৩৫ হাজার ৩৫৬ জন ভোটার ‘অযোগ্য’ হিসেবে তালিকাভুক্ত হওয়ায় তাঁদের নাম ডিলিট হয়ে গেছে। এই বিপুল সংখ্যক মানুষ এখন সামান্য ভুলত্রুটি সংশোধন করে নাম ফেরাতে এফিডেভিটের জন্য জেলা আদালতে ভিড় করছেন। স্ট্যাম্প ভেন্ডারদের দাবি, সপ্তাহে যেখানে সরকারিভাবে ৫০০-৬০০ স্ট্যাম্প মিলছে, সেখানে প্রতিদিনের চাহিদা দাঁড়িয়েছে হাজার ছাড়িয়ে। ফলে বাজারে আসা মাত্রই স্ট্যাম্প নিমিষেই শেষ হয়ে যাচ্ছে।

বার অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক অভিজিৎ সরকার জানিয়েছেন, ডুয়ার্সের প্রত্যন্ত এলাকা থেকে প্রায় সত্তর-আশি কিলোমিটার পথ পেরিয়ে মানুষ আদালতে আসছেন। নাম সংশোধনের আশায় দিনমজুর থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ ভিড় জমালেও স্ট্যাম্পের অভাবে কাজ হচ্ছে না। আবেদনকারীদের এই চাপের মুখে টাইপিস্ট ও মহুরিদেরও নাভিশ্বাস উঠছে; রাত পর্যন্ত কাজ করেও সামাল দেওয়া যাচ্ছে না ভিড়। মানবিকতার খাতিরে বার অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে অভুক্ত ও তৃষ্ণার্ত আবেদনকারীদের জন্য পানীয় জল ও বসার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

অন্যদিকে, গয়েরকাটার তেলিপাড়ার বাসিন্দা আনারুল মহম্মদের মতো অনেকেই পর পর দু-দিন এসেও স্ট্যাম্প না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন। দিনমজুরির কাজ ফেলে এসেও আইনি প্রক্রিয়ার এই অনিশ্চয়তায় দুশ্চিন্তা বাড়ছে সাধারণ মানুষের মনে। সময়মতো এফিডেভিট করে ট্রাইব্যুনালে জমা দিতে না পারলে ভোটার তালিকায় নাম তোলার সুযোগ হাতছাড়া হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বর্তমানে প্রয়োজনীয় স্ট্যাম্পের জোগান স্বাভাবিক না হলে এই সংকট আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *