ভোটের মুখে শিলিগুড়ির বিজেপি প্রার্থী শংকর ঘোষের বিরুদ্ধে পুলিশের স্বতঃপ্রণোদিত মামলা

শিলিগুড়ি বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী শংকর ঘোষের বিরুদ্ধে পুলিশের কাজে বাধা প্রদান ও দাদাগিরির অভিযোগে স্বতঃপ্রণোদিত মামলা দায়ের করা হলো। জলট্যাঙ্কি থানার পুলিশের অভিযোগ, তৃণমূল কংগ্রেসের দলীয় পতাকা ছেঁড়ার একটি ঘটনার তদন্ত করতে গেলে বিজেপি প্রার্থী ও তাঁর অনুগামীরা পুলিশি কার্যকলাপে বাধা সৃষ্টি করেন। নির্বাচনী আবহে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বর্তমানে শিলিগুড়ির রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত গত ৫ এপ্রিল, যখন শাসক শিবিরের পক্ষ থেকে পতাকা ছিঁড়ে দেওয়ার অভিযোগ পেয়ে পুলিশ পাঞ্জাবি পাড়া এলাকায় তদন্তে যায়। অভিযোগ, সেখানে এক ব্যবসায়ীর দোকান থেকে তথ্য সংগ্রহ করে ফেরার পথে শংকর ঘোষের নেতৃত্বে একদল বিজেপি কর্মী পুলিশ বাহিনীকে ঘিরে ধরেন। তদন্তকারী আধিকারিকদের উদ্দেশে আপত্তিকর মন্তব্য করার পাশাপাশি এক পুলিশ কর্মীর বুকে ধাক্কা দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে পুলিশ কোনোক্রমে থানায় ফেরে, যার জেরে পরবর্তীকালে জলট্যাঙ্কি টাউন আউটপোস্টের সামনে দীর্ঘক্ষণ বিক্ষোভ দেখান বিজেপি সমর্থকরা।
পুলিশের দায়ের করা এফআইআর অনুযায়ী, শংকর ঘোষ পুলিশকে শাসিয়ে বলেন যে তিনি তদন্ত করতে দেবেন না এবং আগামী ৪ মের পর সরকার পরিবর্তন হলে পরিণাম ভালো হবে না। এই মন্তব্যের প্রেক্ষিতেই সরকারি কাজে বাধা ও হুমকির অভিযোগে মামলা রুজু হয়েছে। উল্লেখ্য, মনোনয়নপত্র জমার সময় দেওয়া হলফনামা অনুযায়ী, শংকর ঘোষের বিরুদ্ধে আগে থেকেই শিলিগুড়ি থানায় তিনটি এফআইআর রয়েছে। যদিও বিজেপি প্রার্থীর দাবি, এই প্রতিটি ব্যবস্থাপনাই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
বর্তমানে এই মামলার কোনোটিতেই চার্জ গঠন করা হয়নি এবং কোনো অভিযোগেই তিনি দোষী সাব্যস্ত হননি। তবে ভোটের মুখে পুলিশের সঙ্গে প্রার্থীর এই সংঘাত শিলিগুড়ির রাজনৈতিক লড়াইকে এক অন্য মাত্রা দিয়েছে। ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে এলাকা জুড়ে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং প্রশাসন পুরো পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছে। সূত্র মারফত খবর, এই আইনি পদক্ষেপ নিয়ে নির্বাচনী মহলে বিতর্ক আরও তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।