ইরানকে অস্ত্র দিলেই গুনতে হবে ৫০ শতাংশ শুল্ক, যুদ্ধবিরতির মাঝেই ট্রাম্পের চরম হুঁশিয়ারি

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতিতে নতুন মোড়। পাকিস্তান ও চিনের মধ্যস্থতায় সাময়িক যুদ্ধবিরতি ঘোষিত হলেও সুর নরম করছেন না মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বুধবার নিজের সমাজমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশাল’-এ তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, যেসব দেশ ইরানকে সামরিক অস্ত্র বা সরঞ্জাম সরবরাহ করবে, তাদের ওপর ৫০ শতাংশ শাস্তিমূলক শুল্ক আরোপ করবে আমেরিকা। এই সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে কোনো দেশকেই বিশেষ ছাড় বা ব্যতিক্রম দেওয়া হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন ট্রাম্প। প্রেসিডেন্টের এই ‘শুল্কবাণ’ বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাত নিরসনে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় শেষ পর্যন্ত দু’পক্ষের মধ্যে একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই প্রস্তাব অনুযায়ী, আগামী দুই সপ্তাহ আমেরিকা ইরানে কোনো ধরনের সামরিক অভিযান চালাবে না। বিনিময়ে ইরান শর্তসাপেক্ষে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ পথ ‘হরমুজ প্রণালী’ মুক্ত করে দেবে। জানা গিয়েছে, এই চুক্তিতে ইজরায়েলও সম্মতি জানিয়েছে। আগামী ১০ এপ্রিল ইসলামাবাদে দুই দেশের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে দীর্ঘমেয়াদী শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস’ সূত্রে জানা গিয়েছে, এই যুদ্ধবিরতি প্রক্রিয়ায় শেষ মুহূর্তে বড় ভূমিকা পালন করেছে চিন। ট্রাম্পের দেওয়া সময়সীমা শেষ হওয়ার ঠিক আগেই বেজিংয়ের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। ইরানের নতুন সুপ্রিম লিডার মোজতবা খামেনেই এই যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছেন। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় শুরু হওয়া এই শান্তি প্রক্রিয়া চিনের বিশেষ তৎপরতায় পূর্ণতা পেল বলে মনে করা হচ্ছে।
তবে একদিকে যখন শান্তি আলোচনার প্রস্তুতি চলছে, অন্যদিকে ট্রাম্পের কড়া শুল্ক আরোপের হুমকি আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগের ছায়া ফেলেছে। এমনিতেই দীর্ঘ যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ববাজার অস্থিতিশীল, তার ওপর এই নতুন ‘শুল্কযুদ্ধ’ শুরু হলে বাণিজ্যিক লেনদেনের ওপর মারাত্মক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ট্রাম্পের এই অনমনীয় অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি প্রক্রিয়ায় কতটা জটিলতা বাড়াবে, এখন সেটাই দেখার বিষয়।