নির্বাচন কি উন্নয়নের অন্তরায়? সংশোধনাগারের বেহাল দশায় রাজ্যকে তুলোধনা হাইকোর্টের

নির্বাচন কি উন্নয়নের অন্তরায়? সংশোধনাগারের বেহাল দশায় রাজ্যকে তুলোধনা হাইকোর্টের

নির্বাচন প্রক্রিয়ার কারণে প্রশাসনিক কাজে কিছুটা ধীরগতি আসতে পারে, তবে তার অজুহাতে সাধারণ মানুষের জীবন ও মৌলিক অধিকার নিয়ে ছিনিমিনি খেলা যাবে না। রাজ্যের সংশোধনাগারগুলোর শোচনীয় পরিস্থিতি নিয়ে বুধবার এই কড়া বার্তা দিল কলকাতা হাইকোর্ট। বিচারপতি দেবাংশু বসাক এবং বিচারপতি মহম্মদ সব্বার রশিদির ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, বন্দিদের নিরাপত্তা ও চিকিৎসা পরিষেবা নিশ্চিত করা রাজ্যের সাংবিধানিক দায়িত্ব। নির্বাচন কোনোভাবেই এই জরুরি পরিষেবা থমকে যাওয়ার কারণ হতে পারে না।

আদালতে পেশ করা রিপোর্ট অনুযায়ী, রাজ্যের ৬১টি সংশোধনাগারে বন্দি ধারণক্ষমতা প্রায় ২২ হাজার হলেও বর্তমানে সেখানে ২৩,৮৮৬ জন বন্দি রয়েছেন। বিশেষ করে মালদহ সংশোধনাগারের অবস্থা ভয়াবহ, যেখানে ধারণক্ষমতার প্রায় তিনগুণ বেশি বন্দি রাখা হয়েছে। শুধু স্থানাভাবই নয়, চিকিৎসা পরিষেবার চিত্রটিও চরম উদ্বেগজনক। ৬১টি সংশোধনাগারের জন্য চিকিৎসক রয়েছেন মাত্র ২৭ জন এবং কর্মীদের প্রায় এক হাজার পদ শূন্য পড়ে রয়েছে। রাজ্যের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে নির্বাচনের পর এই শূন্যপদ পূরণ করা হবে, কিন্তু আদালত এই যুক্তিতে সন্তুষ্ট হয়নি।

বন্দি মৃত্যুর ঘটনায় ক্ষতিপূরণ প্রদান নিয়েও রাজ্যের ভূমিকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে হাইকোর্ট। ২০২২ সাল থেকে রাজ্যে ১৭৮ জন বন্দির মৃত্যু হলেও মাত্র দুটি পরিবার ক্ষতিপূরণ পেয়েছে। বাকি পরিবারগুলো কেন এখনও সরকারি সহায়তার বাইরে, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন বিচারপতিরা। এ ছাড়া হাইকোর্ট প্রশাসনের আর্থিক ব্যয়ের জন্য কেন এখনও এসওপি (SOP) তৈরি করা হয়নি, তা নিয়েও রাজ্যকে জবাবদিহি করতে বলা হয়েছে।

আগামী ২২ এপ্রিল এই মামলার পরবর্তী শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। তার মধ্যে রাজ্য সরকারকে অতিরিক্ত বন্দি সমস্যা সমাধান, মৃতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার রূপরেখা এবং শূন্যপদ পূরণের বিস্তারিত পরিকল্পনা সম্বলিত হলফনামা জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্বাচন এবং উন্নয়নের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রেখে কীভাবে দ্রুত প্রশাসনিক জটিলতা কাটানো যায়, আদালত এখন সেদিকেই নজর রাখছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *