আড়াই মাস আগের শুনানির নোটিস আজ হাতে পেলেন ১১০০ ভোটার, হাওড়ায় তুমুল বিক্ষোভ

আড়াই মাস আগের শুনানির নোটিস আজ হাতে পেলেন ১১০০ ভোটার, হাওড়ায় তুমুল বিক্ষোভ

ভোটার তালিকায় নাম নেই, অথচ নাম তোলার জন্য নির্ধারিত শুনানির আড়াই মাস পর হাতে এল সেই শুনানির নোটিস। হাওড়ার সাঁকরাইল ব্লকের মানিকপুর গ্রাম পঞ্চায়েতে এই নজিরবিহীন ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। সংশ্লিষ্ট এলাকার ৬টি বুথের প্রায় ১১০০ ভোটার, যাদের বড় অংশই সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের, বুধবার আচমকা বিএলও-র কাছ থেকে শুনানির নোটিস পান। নোটিসে দেখা যায়, তাঁদের ১৫ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে সাঁকরাইল বিডিও অফিসে শুনানিতে হাজির হতে বলা হয়েছিল। অথচ বর্তমানে মার্চের মাস শেষ হয়ে এপ্রিলের ৮ তারিখ অতিক্রান্ত, অর্থাৎ নির্ধারিত দিনের প্রায় ৮০ দিন পর এই চিঠি দেওয়া হয়েছে।

এই খবর জানাজানি হতেই বিক্ষোভে ফেটে পড়েন ভোটাররা। মানিকপুর পঞ্চায়েতের ২৩৫ থেকে ২৪০ নম্বর বুথের এই বিপুল সংখ্যক মানুষ সাঁকরাইল থানার মানিকপুর ফাঁড়ির সামনে জমায়েত হয়ে প্রতিবাদ জানান। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, ইচ্ছাকৃতভাবে চক্রান্ত করে তাঁদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হচ্ছে। সময়মতো নোটিস না পাওয়ায় তাঁরা নথিপত্র নিয়ে শুনানিতে অংশ নিতে পারেননি, ফলে ভোটার তালিকা থেকে তাঁদের নাম বাদ পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিক্ষোভকারীরা এই খামখেয়ালিপনার বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনের সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের কঠোর শাস্তির দাবি তুলেছেন।

পরিস্থিতি সামাল দিতে সাঁকরাইলের বিডিও কামারুল মনির ঘটনাস্থলে পৌঁছলে তাঁকে ঘিরেও বিক্ষোভ দেখানো হয়। অভিযোগ উঠেছে, নিজের দপ্তরের গাফিলতি ঢাকতে বিডিও নোটিসের পুরনো তারিখ কেটে হাতে লিখে বর্তমান তারিখ বসানোর চেষ্টা করেছেন। বিডিও এই বিষয়ে সংবাদমাধ্যমের কাছে কোনো প্রতিক্রিয়া না দিলেও, ক্ষুব্ধ ভোটারদের দাবি, অবিলম্বে তাঁদের নাম পুনরায় ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। তাঁদের বক্তব্য, উপযুক্ত প্রমাণ ও নথিপত্র থাকা সত্ত্বেও কমিশনের দায়িত্বজ্ঞানহীনতার কারণে তাঁরা গণতান্ত্রিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হতে চলেছেন।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইতিমত্যেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। শাসকদলের পক্ষ থেকে এই ঘটনাকে নির্বাচন কমিশনের ‘খামখেয়ালিপনা’ এবং ইচ্ছাকৃতভাবে সংখ্যালঘুদের নাম বাদ দেওয়ার চেষ্টা বলে কটাক্ষ করা হয়েছে। কমিশনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানানোর পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত ওই ১১০০ ভোটারের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছে তৃণমূল নেতৃত্ব। আড়াই মাস আগের শুনানির নোটিস কেন এত দেরিতে বিলি করা হলো, তা নিয়ে নির্বাচন কমিশনের স্বচ্ছতা ও দায়িত্ববোধ নিয়ে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *