ভোটের মুখে কলকাতায় ফের সক্রিয় ইডি, তছরুপ মামলায় রিয়েল এস্টেট সংস্থার একাধিক ডেরায় ম্যারাথন হানা
-1767151507755.jpg?w=1200&resize=1200,675&ssl=1)
নির্বাচনের ঠিক মুখে কলকাতায় পুনরায় অতি-সক্রিয় হয়ে উঠল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। বুধবার সাতসকালে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দাদের একাধিক দল সিজিও কমপ্লেক্স থেকে শহর ও শহরতলির বিভিন্ন এলাকায় অভিযানে বের হয়। ইডি সূত্রের খবর, একটি বিশিষ্ট রিয়েল এস্টেট সংস্থার বিরুদ্ধে ওঠা আর্থিক তছরুপের মামলার তদন্তেই এই তল্লাশি চালানো হয়েছে। শহর এবং পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের প্রায় ছয় থেকে সাতটি জায়গায় কেন্দ্রীয় বাহিনীর কড়া পাহারায় দীর্ঘ সময় ধরে চলে এই অভিযান।
তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে জানা গিয়েছে, মূলত কেষ্টপুরের একটি ফ্ল্যাট এবং প্রিন্স আনোয়ার শাহ রোডের একাধিক দফতরে হানা দেন গোয়েন্দারা। নির্দিষ্ট ওই নির্মাণকারী সংস্থার সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন বাড়ি ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ে তন্নতন্ন করে তল্লাশি চালানো হয়। গোয়েন্দাদের প্রাথমিক লক্ষ্য হলো বেআইনি আর্থিক লেনদেনের উৎস খুঁজে বের করা। বিশেষ করে জমি সংক্রান্ত কারবারে বড় অঙ্কের কোনো বেআইনি লেনদেন হয়েছে কি না, সেই সংক্রান্ত নথিপত্র এবং তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা। তবে এই অভিযানে এখনও পর্যন্ত কোনো নথিপত্র বা অর্থ বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে কি না, তা নিয়ে সংস্থার পক্ষ থেকে স্পষ্ট কিছু জানানো হয়নি।
গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই কলকাতা ও সংলগ্ন এলাকায় ইডির তৎপরতা তুঙ্গে। সম্প্রতি বালিগঞ্জের সোনা পাপ্পুর বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে অস্ত্র উদ্ধারের পাশাপাশি রাসবিহারীর তৃণমূল প্রার্থী দেবাশিস কুমারকেও জিজ্ঞাসাবাদ করেছে কেন্দ্রীয় সংস্থা। এছাড়া পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় দমকলমন্ত্রী সুজিত বসু এবং খাদ্যমন্ত্রী রথীন ঘোষকেও তলব করা হয়েছে। এর আগে আইপ্যাকের দফতরে তল্লাশি চলাকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সেখানে পৌঁছে যাওয়া এবং নথিপত্র উদ্ধার সংক্রান্ত বিষয়টি বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন।
রাজনৈতিক মহলের মতে, ভোটের দোরগোড়ায় ইডির এই ধারাবাহিক সক্রিয়তা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। গোয়েন্দাদের দাবি, নির্বাচনের আগে বেআইনি আর্থিক কারবার রুখতেই এই নজরদারি চালানো হচ্ছে। রিয়েল এস্টেট সংস্থার দফতরে বুধবারের এই অভিযান শহরের অন্যান্য ব্যবসায়ী এবং রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। রাজ্য রাজনীতি যখন নির্বাচনী প্রচার নিয়ে উত্তাল, তখন কেন্দ্রীয় সংস্থার এই পদক্ষেপ নতুন বিতর্কের মাত্রা যোগ করেছে।