ভোটের কাজে সিভিক পুলিশ নিষিদ্ধ করল কমিশন, বুথের সিসিটিভি বন্ধ থাকলেই হবে পুনর্নির্বাচন

২০২৬-এর পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন অবাধ ও শান্তিপূর্ণ করতে কড়া পদক্ষেপ নিল জাতীয় নির্বাচন কমিশন। রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিককে দেওয়া নির্দেশিকায় কমিশন স্পষ্ট জানিয়েছে, ভোটের কাজে কোনোভাবেই সিভিক ভলান্টিয়ার, গ্রিন পুলিশ বা স্টুডেন্ট পুলিশকে ব্যবহার করা যাবে না। এমনকি, ভোটগ্রহণের তিন দিন আগে থেকে ফল প্রকাশের পরের দিন পর্যন্ত সিভিক ভলান্টিয়াররা ইউনিফর্ম পরে কোনো ডিউটিও করতে পারবেন না। ২০২১ ও ২০২৪ সালের নির্বাচনের ধারাবাহিকতা বজায় রেখেই কমিশন এই কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে।
বুধবার রাজ্যের পর্যবেক্ষকদের সঙ্গে এক ভার্চুয়াল বৈঠকে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার স্পষ্ট করে দিয়েছেন, কোন পরিস্থিতিতে বুথে পুনর্নির্বাচন বা রিপোল হবে। কমিশনের ৩ হাজার ক্যামেরা বর্তমানে বুথের ভেতর, বাইরে এবং নাকা চেকিং পয়েন্টগুলোতে নজরদারি চালাচ্ছে। পর্যবেক্ষকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, যদি কোনো বুথের ক্যামেরায় কালো কাপড় ঢাকা দেওয়া থাকে বা ক্যামেরা বন্ধ পাওয়া যায়, তবে কোনো আপস না করে তৎক্ষণাৎ সেখানে পুনর্নির্বাচন ঘোষণা করতে হবে। অতীতে এই ধরনের কারচুপির নজির থাকায় এবার প্রশাসনকে বিশেষ সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
ভোটের প্রাক্কালে রাজ্য সরকার সিভিক ভলান্টিয়ারদের জন্য অ্যাড-হক বোনাস ঘোষণা করার পর তা নিয়ে কমিশনের রিপোর্ট তলব রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছিল। এই আবহে সিভিক পুলিশ ব্যবহারের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি হওয়ায় রাজনৈতিক তরজা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। সুষ্ঠু নির্বাচনের লক্ষ্যে ইতিমধ্যে রাজ্যে বিপুল পরিমাণ কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে এবং বিভিন্ন এলাকায় নাকা চেকিং জোরদার করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, এবারের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে দুই দফায়। আগামী ২৩ এপ্রিল প্রথম দফায় ১৫২টি আসনে এবং ২৯ এপ্রিল দ্বিতীয় দফায় ১৪২টি আসনে ভোটগ্রহণ করা হবে। ২৯৪ আসনের এই বিধানসভা যুদ্ধের ফলাফল ঘোষণা হবে আগামী ৪ মে। সিসিটিভি ক্যামেরায় কোনো রকম গলদ ধরা পড়লেই কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়ে কমিশন বুঝিয়ে দিয়েছে যে, ভোট প্রক্রিয়ায় কোনো স্বচ্ছতাহীনতা বরদাস্ত করা হবে না।