ভোট দিতে না পারলে ট্রাইব্যুনাল কীসের, ভোটার তালিকা ফ্রিজ করা নিয়ে কমিশনের বিরুদ্ধে গর্জে উঠলেন মমতা

ভোট দিতে না পারলে ট্রাইব্যুনাল কীসের, ভোটার তালিকা ফ্রিজ করা নিয়ে কমিশনের বিরুদ্ধে গর্জে উঠলেন মমতা

নির্বাচন কমিশনের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত এবং ভোটার তালিকা ‘ফ্রিজ’ করা নিয়ে বুধবার শ্রীরামপুরের নির্বাচনী প্রচার সভা থেকে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজ্যে কয়েক লক্ষ ভোটারের নাম বাদ পড়া এবং তাঁদের অধিকার রক্ষা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে ট্রাইব্যুনাল গঠিত হলেও, কেন ভোটের আগে বিচার প্রক্রিয়া শেষ হলো না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি সাফ জানান, মানুষ যদি ভোটই দিতে না পারে, তবে এমন ট্রাইব্যুনাল থাকার কোনো সার্থকতা নেই।

রাজ্যে প্রায় ৬০ লক্ষ ‘বিবেচনাধীন’ ভোটারের মধ্যে প্রায় ২৬ লক্ষ মানুষের নাম চূড়ান্ত তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী, যাঁদের নাম বাতিল হয়েছে তাঁরা ট্রাইব্যুনালে আবেদন করার সুযোগ পাওয়ার কথা। কিন্তু গত সোমবার রাজ্যের প্রথম দফার ১৫২টি আসনে মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিনেই জনপ্রতিনিধিত্ব আইন অনুযায়ী ভোটার তালিকা ‘ফ্রিজ’ বা চূড়ান্ত হয়ে গিয়েছে। এই আইনি মারপ্যাঁচেই থমকে গিয়েছে কয়েক লক্ষ মানুষের ভোটাধিকার পাওয়ার সম্ভাবনা।

শ্রীরামপুরের সভা থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরাসরি নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, “ট্রাইব্যুনাল চলাকালীন কীভাবে প্রথম দফার ভোটার লিস্ট ফ্রোজেন হয়ে গেল, তা আমার মাথায় ঢুকছে না।” তৃণমূল নেত্রীর প্রশ্নের জবাবে দলের সাংসদ তথা প্রখ্যাত আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, নির্বাচন কমিশন এখনও ট্রাইব্যুনালের প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো তৈরি করেনি, যার ফলে ট্রাইব্যুনাল কার্যকর হতে পারছে না। এর ফলে কয়েক লক্ষ মানুষের নাম তোলার অধিকার থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার এই প্রচেষ্টাকে তৃণমূল কংগ্রেস আইনিভাবে চ্যালেঞ্জ করবে বলে ঘোষণা করেছেন দলনেত্রী। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন যে, মানুষের নাম তোলার অধিকার একটি মৌলিক অধিকার এবং ট্রাইব্যুনাল বিচার করার আগেই তালিকা বন্ধ করে দেওয়া গ্রহণযোগ্য নয়। মানুষের জানার অধিকার আছে এবং তৃণমূল এই ইস্যুতে নির্বাচন কমিশনের পদক্ষেপের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাবে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বর্তমানে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *