টলিউড প্রযোজকের বিরুদ্ধে কুপ্রস্তাব ও শোষণের বিস্ফোরক অভিযোগ অভিনেত্রীর, ‘উনার স্ত্রী সব জানেন’

টলিউডের গ্ল্যামারের আড়ালে থাকা অন্ধকার অধ্যায় নিয়ে এবার সরব হলেন এক অভিনেত্রী। ইন্ডাস্ট্রির প্রভাবশালী প্রযোজনা সংস্থা ‘টেন্ট মিডিয়া’-র কর্ণধার সুশান্ত দাসের বিরুদ্ধে অশালীন আচরণ, মানসিক নিগ্রহ এবং ক্যারিয়ার ধ্বংসের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তুলেছেন তিনি। সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের দীর্ঘদিনের ট্রমা ভাগ করে নিয়ে অভিনেত্রী জানান, শুধুমাত্র কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় তাঁর অভিনীত গুরুত্বপূর্ণ দৃশ্য সম্প্রচার বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছিল। তাঁর দাবি, আত্মসম্মান বিসর্জন দিয়ে কাজ করতে চাননি বলেই তাঁকে ইন্ডাস্ট্রি ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছে।
অভিনেত্রীর অভিযোগ অনুযায়ী, সুশান্ত দাস কেবল পেশাগতভাবেই নয়, ব্যক্তিগত জীবনেও তাঁকে চরম অতিষ্ঠ করে তুলেছিলেন। অনুমতি ছাড়াই তাঁর বাড়িতে গিয়ে চিৎকার করা এবং পরিবারের কাছে তাঁর সম্পর্কে মিথ্যে তথ্য দিয়ে সম্পর্ক নষ্ট করার মতো গুরুতর অভিযোগ এনেছেন তিনি। সবচেয়ে বিস্ময়কর দাবি হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন যে, প্রযোজকের স্ত্রী সব জেনেও নীরব থাকতেন। অভিনেত্রীর প্রশ্ন, একজন নারী হয়ে কীভাবে অন্য এক নারীর ওপর হওয়া এমন নিগ্রহ মেনে নেওয়া সম্ভব? দিনের পর দিন এমন পরিস্থিতির শিকার হয়ে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন বলে জানান।
বর্তমানে অন্য পেশায় থাকলেও অভিনয়ের প্রতি ভালোবাসা থেকে আবারও সসম্মানে ফেরার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন এই অভিনেত্রী। তিনি আর্টবোর্ড বা অডিশনের মাধ্যমে নিজের যোগ্যতায় কাজ পাওয়ার দাবি জানিয়েছেন। এই সংকটে তিনি ইন্ডাস্ট্রির অভিভাবকতুল্য ব্যক্তিত্ব প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, দেব এবং রাজ চক্রবর্তীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাঁর আবেদন, আর্টিস্ট ফোরাম যেন ফেডারেশনের মতো সাধারণ শিল্পীদের পাশে দাঁড়ায়, যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো মেয়েকে এভাবে স্বপ্ন বিসর্জন দিতে না হয়।
সাম্প্রতিক সময়ে অভিনেতা রাহুলের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে টলিউডে অস্থিরতা এবং ধারাবাহিকের কাজ বন্ধ হওয়া নিয়ে যখন বিতর্কের ঝড় বইছে, ঠিক তখনই এই বিস্ফোরক অভিযোগ নতুন মাত্রা যোগ করেছে। অভিনেত্রী স্পষ্ট করেছেন যে, এতদিন ভয়ে মুখ না খুললেও এখন সময় এসেছে সত্য সামনে আনার। নিজের বুকের ভেতর জমে থাকা দীর্ঘদিনের যন্ত্রণা হালকা করতেই তিনি নাম নিয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছেন এবং এই অন্যায়ের বিচারের ভার ইন্ডাস্ট্রি ও সাধারণ মানুষের ওপর ছেড়ে দিয়েছেন।