ইরানের অদম্য সাহসকে কুর্নিশ জানিয়ে ভারতের বিদেশ নীতি নিয়ে কড়া বার্তা মহুয়া মৈত্রের

ইরান ও আমেরিকার মধ্যকার সাম্প্রতিক সংঘাত ও যুদ্ধবিরতির আবহে এবার ভারতের বিদেশ নীতি নিয়ে মোদী সরকারকে তীক্ষ্ণ পরামর্শ দিলেন তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র। আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতির এই উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘এক্স’-এ (সাবেক টুইটার) পরপর কয়েকটি পোস্টে ইরানের অনমনীয় মনোভাবের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন তিনি। মহুয়ার মতে, প্রতিকূল পরিস্থিতির মাঝেও ইরান বিশ্বকে দেখিয়েছে যে ‘সাহস’ ও ‘দৃঢ়তা’ কাকে বলে। চাপের মুখে নতি স্বীকার না করে নিজেদের অবস্থানে অবিচল থাকা অন্যান্য রাষ্ট্রগুলির জন্য একটি বড় উদাহরণ।
ভারতের বিদেশ নীতি প্রসঙ্গে সুর চড়িয়ে কৃষ্ণনগরের সাংসদ স্পষ্ট জানান, ভারতকে এখন সেইসব শক্তির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে যারা আন্তর্জাতিক স্তরে চাপ প্রয়োগের চেষ্টা করছে। দিল্লির উচিত নিজস্ব যুদ্ধবিরতি পরিকল্পনা, বাণিজ্য চুক্তি এবং স্বতন্ত্র জ্বালানি নীতি নির্ধারণ করা। ভারতের আন্তর্জাতিক অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করতে একটি সম্পূর্ণ ‘স্বাধীন বিদেশ নীতি’ অনুসরণের পরামর্শ দিয়ে তিনি নিজের বক্তব্যের শেষে ‘জয় হিন্দ’ স্লোগান দেন।
ইরানের সাধারণ মানুষের অকুতোভয় লড়াইকেও বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন এই তৃণমূল নেত্রী। তিনি উল্লেখ করেন, হুমকির মুখে থাকা সেতুর ওপর সাধারণ মানুষের তৈরি মানবশৃঙ্খল এই শতাব্দীর অন্যতম সংজ্ঞায়িত ছবি হয়ে থাকবে। ফ্যাসিবাদী শক্তিকে পরাজিত করার জন্য সাধারণ মানুষের অদম্য সাহসই যে যথেষ্ট, ইরানের জনগণ তা প্রমাণ করে দিয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
লোকসভা ভোটের আবহে মহুয়া মৈত্রের এই আন্তর্জাতিক মন্তব্য দেশীয় রাজনীতিতেও নতুন মাত্রা যোগ করেছে। বিশেষ করে ভারতের বিদেশ নীতির স্বকীয়তা ও নেতৃত্বের দৃঢ়তা নিয়ে তাঁর এই কড়া অবস্থান রাজনৈতিক মহলে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। মহুয়ার এই মন্তব্য একদিকে যেমন ইরানের জনগণের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছে, অন্যদিকে দিল্লির বর্তমান কূটনৈতিক অবস্থানকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে।