ইজরায়েল কর্তৃক যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ হরমুজে জাহাজ আটকাল ইরান

ইজরায়েল কর্তৃক যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ হরমুজে জাহাজ আটকাল ইরান

ইরান ও আমেরিকার মধ্যে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি চুক্তি সম্পাদন হলেও মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা প্রশমিত হওয়ার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। বুধবার সকালে হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী তেলবাহী জাহাজগুলোকে থামিয়ে দিয়েছে ইরানি নৌবাহিনী। ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (IRGC) পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, এই জলপথ দিয়ে যাতায়াতের জন্য এখন থেকে ইরানের বিশেষ বাহিনীর অনুমতি নিতে হবে। রেডিও বার্তার মাধ্যমে সতর্ক করে বলা হয়েছে যে, অনুমতি ছাড়া কোনো জাহাজ পারাপারের চেষ্টা করলে তাকে লক্ষ্যবস্তু করে ধ্বংস করা হবে। মূলত ইজরায়েল কর্তৃক যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের প্রতিবাদেই ইরান এই কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে বলে জানা গেছে।

ইজরায়েলের দাবি অনুযায়ী, দুই সপ্তাহের এই যুদ্ধবিরতি লেবানন অঞ্চলের জন্য প্রযোজ্য নয়। লেবাননে ইজরায়েলি হামলা অব্যাহত থাকায় ইরান এই চুক্তি থেকে সরে আসার ইঙ্গিত দিয়েছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানিয়েছেন, ইরানের ওপর হামলা বন্ধ থাকলে তাদের সশস্ত্র বাহিনীও প্রতিরক্ষা অভিযান স্থগিত রাখবে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরানের সামরিক নজরদারিতেই কেবল জাহাজ চলাচল সম্ভব হবে। এদিকে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানিয়েছিলেন যে, হরমুজ প্রণালী নিরাপদ ও উন্মুক্ত রাখার শর্তে তিনি দুই সপ্তাহের জন্য ইরানে হামলা স্থগিত রাখতে সম্মত হয়েছেন।

আঞ্চলিক এই অস্থিরতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ এক বার্তায় জানান, সংঘাতপূর্ণ এলাকায় যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের ঘটনা শান্তি প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করছে। তিনি সব পক্ষকে সংযম প্রদর্শনের এবং দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি চুক্তিকে সম্মান জানানোর আহ্বান জানিয়েছেন। একদিকে ট্রাম্প প্রশাসন হরমুজ প্রণালীতে জাহাজের জট কমানোর আশ্বাস দিচ্ছে, অন্যদিকে ইরান জলপথের ওপর নিজেদের একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে মরিয়া। ফলে আন্তর্জাতিক এই বাণিজ্য পথটি ঘিরে নতুন করে সামরিক উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *